✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল টাকা তুলতে পারবেন। একই সঙ্গে আমানতের মুনাফায় কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ বা কর্তন করা হবে না।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারের সাক্ষাৎকারের সময় এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান, মো. কবির আহমাদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সাক্ষাৎকালে গভর্নর বলেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না বলে ঘোষণা দিলেও এ বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে কিছু অস্পষ্টতা আছে। তাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না।
এদিকে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বরের ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ইতিমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ প্রয়োজন অনুযায়ী তুলতে পারবেন। সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি একীভূত পাঁচ ব্যাংকের হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তৎকালীন গভর্নর আহসান মনসুরের নির্দেশে সেদিন পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসককে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের স্থিতির ওপর মুনাফা পাবেন না।
আন্তর্জাতিক রীতি মেনে আমানতকারীদের দুই বছরের মুনাফা ‘হেয়ারকাট’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে আমানতকারীদের আমানতের একটি অংশ কেটে রাখা বা ‘হেয়ারকাট’ কার্যকর করা হয়। এরপরই আমানতকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক দেশের সর্ববৃহৎ ও একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
ফলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীদের জন্য ব্যাংকটির স্বাভাবিক লেনদেনের পরিধি আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
দীর্ঘদিন আমানতকারীদের জমানো টাকা ফেরত দিতে না পারা শরীয়াহভিত্তিক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক মিলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। ব্যাংকগুলো এতদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা প্রশাসক দিয়ে চলছিল। তবে সম্প্রতি সব প্রশাসক তুলে এনে সরকারের নিয়োগ দেওয়া পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে।
