✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে চলমান সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৬ মিনিটে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যান।
সরকারের বিরুদ্ধে পরিপূর্ণ সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে আংশিক সংস্কারের অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। এর অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপন পর্ব থেকে বিরোধী দল ওয়াকআউট করে।
সংসদে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর আইনপ্রণয়ন কার্যক্রম শুরুর আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি নিয়ে কথা বলেন। তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না হওয়ার কঠোর সমালোচনা করেন।
পরে শফিকুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার উত্থাপনের জন্য নির্ধারিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপনের পরে অংশ নেবেন না উল্লেখ করে ওয়াকআউট করেন। বিরোধী দল রাত ৮টা ৬ মিনিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। পরে তারা গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন।
জাতীয় সংসদে চলমান অধিবেশনে তিনটি বিল উত্থাপনের আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান একাধারে বেশ কিছু অভিযোগ তোলেন। সে সঙ্গে পরিপূর্ণ সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে সরকার আংশিক সংস্কার করতে চাইছে, এমন অভিযোগ এনে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল।
আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে রাত ৮টা ৬ মিনিটে ওয়াকআউট করে তারা।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আইন প্রণয়নের জন্য এখানে তিনটি বিল আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। দেশে নানা সমস্যা বিরাজ করছে। এসব নিয়ে আলোচনার জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকার অনুরোধ করা হয়েছিল, কিন্তু সেটার জবাব পাইনি।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে আমাদের সামনে তিনটা বিল এসেছে। সেগুলো আজকে অবশ্য আলোচনা হবে না, উত্থাপনের জন্য এসেছে। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে তার প্রক্রিয়াটা শুরু হবে।’
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদ নির্বাচন অনুযায়ী, এর ফলাফল অনুযায়ী সংসদ আহ্বান করা হয়েছে; কিন্তু গণভোটের জন্য সংস্কার পরিষদের সে সভা আহ্বান করা হয়নি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গণভোটের রায় মানা তো হয়নি, উল্টো ১৩৩টা অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টা ল্যাপস করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন—এ মৌলিক বিষয়গুলো ছিল। যেগুলো ঠিক না হলে ফ্যাসিবাদ থেকে দেশ মুক্তি পাবে না।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখন আমরা দেখছি যে, সেগুলো আস্তে আস্তে বিভিন্ন কায়দায় সরকারি দল এখানে নিয়ে আসছে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংসদ। আজ বৃহস্পতিবার প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নকে শাহবাগ স্কয়ার ও পল্টনের বক্তৃতার সঙ্গে তুলনা করায় বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ সময় তাঁরা আসন থেকে দাঁড়িয়ে হইচই করতে থাকেন।
বিরোধী দলের প্রতিবাদের মুখে একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন। তবে এরপরও প্রতিবাদ অব্যাহত থাকায় প্রায় ১১ মিনিট সংসদের কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অতীতেও বিরোধী দলকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিয়েছেন। বিষয়টিকে তিনি ‘সংসদীয় ফ্যাসিবাদ’ বলে আখ্যায়িত করেন।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন, শুরু হয় বিতর্ক
আজ প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অচলাবস্থার সূত্রপাত হয়। মাসুদ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার করে ছিনতাই, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলায় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদক্ষেপ জানতে চান।
প্রশ্নের শুরুটা বুঝতে পারেননি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার প্রশ্ন করার অনুরোধ করেন। পরে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে মাসুদ একই প্রশ্ন করেন।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বিগ্নতার সঙ্গে লক্ষ করছি যে, দিনদুপুরে অস্ত্র ব্যবহার করে ছিনতাই হচ্ছে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা হামলার শিকার হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা হলেও কোনো আসামিকে গ্রেফতার না করে বরং তার পরিপ্রেক্ষিতে যে মিথ্যা, ভুয়া মামলা দেওয়া হয়েছে, সেই মামলায় ওই বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদক্ষেপ জানতে চাই।’
জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শাহবাগ স্কয়ারে বক্তৃতা দেওয়া আর পার্লামেন্টে বক্তৃতা দেওয়া এক কথা না। এ বক্তব্যের পরই বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান। কয়েকজন সদস্য আসন থেকে দাঁড়িয়ে হইচই করতে থাকেন। পরিস্থিতির মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কাউকে উদ্দেশ করে বলি নাই।’ এরপরও বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতিবাদ চলতে থাকলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি আপনার শেল্টার চাচ্ছি।’
পরে বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করছেন। তবে এতে বিরোধী দল শান্ত না হয়ে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তাঁর আসনে বসে পড়েন।
স্পিকারের অনুরোধেও থামেনি হইচই
বিরোধী দলের অব্যাহত প্রতিবাদের মধ্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিরোধীয়দলীয় সদস্যবৃন্দ, আপনারা অনুগ্রহ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শুনবেন।’ তিনি বারবার সদস্যদের বসার অনুরোধ করেন। তবে বিরোধী দলের সদস্যরা চিৎকার-চেঁচামেচি অব্যাহত রাখেন। এ সময় স্পিকার বলেন, ‘এটা তো আওয়ামী লীগের আমল না। এখানে আপনারা ইচ্ছামতো সরকারকে ক্রিটিসাইজ করতে পারছেন।’
বিরোধী দলের সদস্যদের মাইক দেওয়া হবে জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘এইভাবে ঢালাও না বলে মাইকে বললে তো সবাই শুনতে পায়। আপনাদের সুযোগ দেওয়া হবে। যখন সুযোগ পাবেন, মাইকে বলবেন। আপনাদের স্পিকারের আসন থেকে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে, অনুগ্রহ করে বসুন। আপনাদের তো উত্তর দেওয়ার সুযোগ পাবেন।’
এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ফ্লোর চাইলে স্পিকার জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর তাঁকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে।
বিরোধী দলের হইচইয়ের মধ্যেই আবার বক্তব্য শুরু করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একপর্যায়ে স্পিকার তাঁকে তাঁর দিকে তাকিয়ে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোথায় ছিনতাই হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তার হয় নাই, সেটার সুনির্দিষ্ট বর্ণনা দরকার। শুধু হাওয়াভাবে যদি বলা হয়…যে, এই সমস্ত হচ্ছে প্রতিকার কী, বিরোধী এমপির ওপর হামলা হচ্ছে, প্রতিকার কী, নির্দিষ্ট প্রশ্ন করতে হবে। সে জন্য বলেছি, এটা মহান জাতীয় সংসদ।’
এরপর স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন।
বক্তব্যের শুরুতেই বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমাকে আগে সুযোগ দিলে উনার কথাটা শুনতে পেতাম।’ এ সময় সরকারি দলের কয়েকজন সদস্য তাঁর উদ্দেশে কথা বলতে থাকলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বক্তব্য কি আপনি দেবেন না আমি দেব? আপনি দেন।’ স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এটা অশুভ। আমার বক্তব্যের সময় যদি এইভাবে কমেন্টস করা হয়, তাহলে আমার এখানে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই, আজকে নতুন করে তিনি এই শব্দগুলো উচ্চারণ করেন নাই। সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে সবাইকে… আমি বুঝতে পারি না, উনি নিজেকে কী মনে করেন। এমনকি তিনি এখানে দাঁড়িয়ে সেই দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তিনি বলেছেন যে, এই সংসদে তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন। আমরা তাঁর ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসি নাই। শিক্ষকতা করতে হলে তিনি একটা ইউনিভার্সিটি খুলুন, ওখানে যার পছন্দ গিয়ে ভর্তি হবে। উনার লেকচার শুনবে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে একই বক্তব্যে দুইবার উনি অ্যাটাক করে ফেললেন। আমার সঙ্গীরা তো মনে করে, আমি নিজেও মনে করি যে, এইটা কালচারাল নয়, এইটা পার্লামেন্টারিয়ান ফ্যাসিজম। এটা হওয়া উচিত না।’
বক্তব্য এক্সপাঞ্জ ও দুঃখ প্রকাশের দাবি
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদের সৌন্দর্য রক্ষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং তাঁর বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করতে হবে। তিনি বলেন, এটি হলে বিরোধী দল সংসদকক্ষে থাকবে, অন্যথায় অপমান নিয়ে এখানে বসার প্রশ্নই ওঠে না। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁর বক্তব্য সমর্থন জানান।
‘অসহিষ্ণুতা সংসদের জন্য ভালো লক্ষণ নয়’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জাতীয় সংসদে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন করার জন্য সবাই আমরা দায়িত্ব পালন করছি। সংসদ দেশের গর্ব, জনগণের প্রতিষ্ঠান। কিছু আইন-কানুন, রীতিনীতি অনুসারে এই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। বিশেষ করে, রুলস অব প্রসিডিউর ফলো করা না হলে সংসদ কার্যকর থাকে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি যে, ক্রমেই কিছু কিছু সদস্যের মধ্যে আমি অসহিষ্ণুতা লক্ষ করছি। জাতীয় সংসদ পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এখানে প্রত্যেকেরই কথা বলার স্বাধীনতা আছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবির বিষয়ে স্পিকার বলেন, তিনি বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখবেন। অসংসদীয় কিছু থাকলে তা এক্সপাঞ্জ করা হবে।
বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করবেন না। আপনারা যে কয়জন আছেন, তার দ্বিগুণ তিন গুণ এপাশে (সরকারি দলে) আছে। সুতরাং, শব্দ করে এর বাণীকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমাকে সংসদ পরিচালনা করতে দিন। আমি আমার জ্ঞান-বুদ্ধিমতো নিরপেক্ষভাবেই সংসদ পরিচালনা করার চেষ্টা করছি।’
‘সংসদকে কোনো গুণে বিভক্ত করার পক্ষে নই’
স্পিকারের বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আজকের বিষয়টা একেবারে স্পষ্ট। এটা তো আর পরীক্ষা করে দেখার কোনো বিষয় নেই।’ তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, ‘শেষের দিকে গিয়ে একটু বললেন যে, এইদিকের চাইতে ওইদিকে তিন গুণ আছেন। এটা তো ভালো লাগল না। আমি এই সংসদকে কোনো গুণে বিভক্ত করার পক্ষে নই। আমরা প্রথম দিক থেকে বলেছি, ভালো কাজে আমরা সবাই এক হব। একসঙ্গে কাজ করব। অন্যায় কিছু হলে আমরা প্রতিবাদ করব। আমরা সেই প্রতিবাদ করেছি—হয়তো এই প্রতিবাদ কারও পছন্দ হবে, কারও পছন্দ হবে না, সেটা ভিন্ন; কিন্তু আমি মনে করি যে, এই ধারায় আমাদের হ্যান্ডেল না করলে খুশি হব।’
সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পিকারের উদ্বেগ
পরে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, আমি কিন্তু সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। আজকে যেইভাবে একে অন্যকে কথা বলার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা লক্ষ করেছি, এটি সংসদের জন্য কোনো ভালো লক্ষণ নয়। অনেক কষ্টের পর গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। এই গণতন্ত্র যাতে বহাল থাকে, সে জন্য সংসদের প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্ব এখানে রয়েছে।’
হাসনাতের প্রশ্নেও ‘পল্টনের বক্তৃতা’ মন্তব্য
এর আগে এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূরক প্রশ্ন করেন। তিনি বর্তমান সরকারের ছয় মাস ও তার আগের ছয় মাসে খুন-ধর্ষণসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফলতা-ব্যর্থতা জানতে চান।
জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাসনাতের প্রশ্নকে ‘পল্টনের বক্তৃতা’র সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘এটা প্রশ্ন হলো না, পল্টনের বক্তৃতা হলো, বুঝতে পারিনি।’
হাসনাত তাঁর প্রশ্নে যে তথ্য তুলে ধরেছেন, তার কোনো সোর্স উল্লেখ করেননি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো পল্টনে বক্তব্য চলে, এটা সংসদ; সংসদে তথ্যভিত্তিক কথা বলতে হবে। যদি কোনো স্পেসিফিক ঘটনার কথা বলা হয়, তা নিয়ে আমরা ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দিতে পারব।’
