✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে মৃত্যুও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিন বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৯৭ জনের। অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে গত তিন মাসে। এর মধ্যে আগস্টে সবচেয়ে বেশি ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। জুলাইয়ে মারা গেছেন ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জন। এছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
জুলাই মাসে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৯ হাজার ২০৬ জন। আগস্টে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৩৬ জনে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ১১ হাজার ৩৩০ জন।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত প্রতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক হাজারের নিচে। জুনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৯০৭ জনে। পরের মাস জুলাইয়ে তা প্রায় তিন গুণ বেড়ে ৯ হাজার ২০৬ জনে পৌঁছায়। আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে ২০ হাজার ৫৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। তবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ নারী এবং ৪৩ শতাংশ পুরুষ।
চলতি বছর দেশের ৬৪ জেলাতেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। সিটি করপোরেশনের বাইরে একক জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে পিরোজপুরে ১ হাজার ৫৩৫ জন। এরপর রয়েছে ঝালকাঠি, যেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩১ জন।
সেপ্টেম্বর নাগাদ ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী। তিনি বলেন, যেভাবে প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু আক্রান্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটা আমাদের দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সেপ্টেম্বর নাগাদ ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আরও বেশি হবে বলে আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করছি এবং তা নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত চলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় হলো মশা নিয়ন্ত্রণ করা। তাই আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে জাতীয় পর্যায়ে ডেঙ্গুর হটস্পট চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হটস্পট চিহ্নিত করার পর সরকারের সব স্তরের জনবল ও জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা নিয়ে লার্ভা ধ্বংসের পরামর্শ দেওয়া হবে।
২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মত।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে একলাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন।
২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৭০৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০০০ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৬ বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৩০৪০ জনের।
দেশের প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় ২০০০ সালে। ওই বছর ৫ হাজার ৫৫১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়, আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়।
২০০০ সালের পরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে এলেও ২০১৯ সালে ডেঙ্গুতে ভয়াবহ পরিস্থিতি অতিক্রম করে দেশ। ২০১৯ সালে ১ লাখেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়, আর মৃত্যু হয় ১৭৯ জনের।
২০২০ সালে করোনার প্রকোপের মধ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কম ছিল। ২০২০ সালে ডেঙ্গুতে মারা যায় ৭ জন, ২০২১ সালে ১০৫ জন এবং ২০২২ সালে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়।
ঢাকার তুলনায় এর বাইরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০২৩ সালে ছিল দ্বিগুণের বেশি। সারা দেশের মৃত্যুর ৫৮ শতাংশই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের।
