শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন ১৬ ডিসেম্বর

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আগামী ১৬ ডিসেম্বর শুরু হবে। প্রথম দিন এই টার্মিনাল ব্যবহার করে ২০টি উড়োজাহাজ চলাচল করবে। তবে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

মঙ্গলবার টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বিমানমন্ত্রী জানান, তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা থেকে অর্জিত আয়ের ২৭ শতাংশ বাংলাদেশ পাবে। পাশাপাশি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

তিনি বলেন, আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু করা হবে। আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর দিন ২০টি উড়োজাহাজ চলাচলের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হবে।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, থার্ড টার্মিনাল চালু হলে আগের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি সক্ষমতা নিয়ে বিমানবন্দর পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পুরোপুরি চালু হলে ২০০ থেকে ২৫০টি এয়ারক্রাফট হ্যান্ডেল করার সক্ষমতা তৈরি হবে।

তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগকারী আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাদের কাছে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের উপযোগী দেশ হিসেবে তুলে ধরতে বিমানবন্দরের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে বাংলাদেশের অংশ ছিল ১৫ শতাংশ, সেটি বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাপানের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

টার্মিনালের কাজ শেষ করতে আরও প্রায় ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে বলেও জানান তিনি। এরই মধ্যে কিস্তিতে অর্থ দেওয়া শুরু হয়েছে।

যাত্রীদের দ্রুত লাগেজ বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, থার্ড টার্মিনাল চালুর পর যাত্রীরা যাতে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ হাতে পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের টাকা অতিরিক্ত খরচ করে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করতে চায় না সরকার। ফলে বর্তমান নামই বহাল থাকছে।

মন্ত্রী বলেন, ১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে টার্মিনাল চালু করার লক্ষ্য সামনে রেখে আজ থেকেই উদ্বোধনের প্রস্তুতি শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করে বাকি কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কাজের বর্তমান অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে ১৬ ডিসেম্বর আংশিক উদ্বোধন সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী। এরপর ধাপে ধাপে টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা হবে এবং আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিদর্শনকালে বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

২০১৭ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি অর্থ জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণ থেকে নেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করা হয়। সে সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের মধ্যে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *