জামিনে কারামুক্ত হলেন বিদিশা

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। একটি প্রতারণা মামলায় তার দুই বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান বলে জানিয়েছেন কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নজরুল ইসলাম।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার সকালে বিদিশার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছায়। পরে তা যাচাই বাছাই শেষে সঠিক পাওয়া গেলে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান।

প্রসঙ্গত, প্রতারণার মামলায় গত ২৫ আগস্ট রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত বিদিশাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন বিদিশাকে আদালতে হাজির করা হয়। সেদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিদিশার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।

এর আগে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলায় গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। রায়ের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিদিশার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়ের করা এ মামলার সূত্রে জানা যায়, বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য তাদের মধ্যে ৮০ লাখ টাকার চুক্তি হয়। 

অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডাকেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বাদীকে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ বাদীর।

মামলায় আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাদীকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়েও ব্যাংকে চেকটি জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

বাদীর অভিযোগ, এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। মামলায় দাবি করা হয়, বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাদীকে অপেক্ষা করতে হবে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *