মেঘমল্লার বসু লাইফ সাপোর্টে

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মেঘমল্লার বসুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

লাইফ সাপোর্টের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, গতকাল মঙ্গলবার থেকে তাঁর অবস্থার অবনতি হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল বিকেল থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ যাচ্ছিল। এ কারণেই চিকিৎসকেরা তাঁকে আইসিইউতে দিয়েছেন। আজ সন্ধ্যার দিকে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট এলাকা থেকে মেঘমল্লার বসুকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁর পরিচিত লোকজন তাঁকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর পাকস্থলী ওয়াশ করা হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিষক্রিয়ার আশঙ্কায় তাঁর পাকস্থলী ওয়াশ করা হয়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, চিকিৎসকরা মনে করেছেন, তাকে আইসিইউতে নেওয়া দরকার। বিকেল থেকে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ যাচ্ছিল। এ কারণেই চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে দিয়েছেন।

প্রথমে মেঘমল্লার বসুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৬০২ নম্বর কক্ষের ৩ নম্বর বেডে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিষক্রিয়ার আশঙ্কায় তার পাকস্থলি ধৌত করা হয়েছিল।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও অসুস্থ অবস্থায় মেঘমল্লারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের পর তাঁকে উদ্ধার করা হয় বলে তাঁর সহপাঠীরা জানিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে আবারও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন মেঘমল্লার। পরে জুলাইয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনে (এনপিএ) যুক্ত হওয়ার কথা জানান তিনি। চলতি বছরের শুরুতে এনপিএর আত্মপ্রকাশের সময় সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত ৯৯ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই তালিকায় মেঘমল্লারের নামও ছিল।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বামপন্থী সাতটি সংগঠনের জোট ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’-এর প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মেঘমল্লার। নির্বাচনে প্রায় পাঁচ হাজার ভোট পেয়ে তিনি তৃতীয় হন। নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে তাঁর অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *