✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
নৌপথে জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব আল-মানদেব প্রণালি দখল করে নিয়েছেন ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির যোদ্ধারা।
শুক্রবার লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব নৌপথের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত একটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় হুতিরা। এর মাধ্যমে পুরো প্রণালি এলাকায় তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ময়উন দ্বীপ (পেরিম নামেও পরিচিত) থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনী প্রত্যাহার করার পর সশস্ত্র হুতি যোদ্ধাদের বহনকারী নৌকাগুলো ওই দ্বীপে পৌঁছায়। বাব আল-মানদেব এলাকা ও প্রণালির ঠিক মাঝখানে অবস্থিত ময়উন দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুতিরা।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে জানান, সশস্ত্র ব্যক্তিরা বাব আল-মানদেব উপকূলজুড়ে মোতায়েন রয়েছেন এবং সামরিক যানবাহনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। ফলে বাব আল–মানদেব প্রণালি নৌ চলাচলের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হুতিরা এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচলের ঝুঁকি আরও বাড়ল।
হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মোখা বিমানবন্দরে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে হুতি পরিচালিত আল-মাসিরা টিভি। আজ দুবার এ হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেন হুতি যোদ্ধারা। গতকাল তাঁরা লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর মোখা দখল করে নেন।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে সৌদি আরব তাদের ২০ শতাংশ তেল রপ্তানির জন্য লোহিত সাগরের ওপর প্রধানত নির্ভর করছিল। কিন্তু পেরিম দ্বীপ দখলে নেওয়ায় হুতিরা এখন বাণিজ্যিক নৌপথ অবরুদ্ধ করা বা নৌ চলাচলে হুমকি তৈরির বিশাল সক্ষমতা অর্জন করল। এই ঘটনার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত মে মাসের পর প্রথমবারের মতো প্রতি ব্যারেলে ১০৮ ডলার অতিক্রম করেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, একই সময়ে সৌদি আরবের কৌশলগত পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের পথ ধরে ৬০ মাইল দীর্ঘ ধোঁয়ার কুণ্ডলী স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন অবকাঠামোয় মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কও করা হচ্ছে। যদিও রিয়াদ বা হুতি কোনো পক্ষই এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট বিবৃতি দেয়নি।
লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ সতর্ক করে বলেন, ‘হুতিরা এখন একইসঙ্গে সৌদি নিরাপত্তার দুটি মূল স্তম্ভে—দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত ও লোহিত সাগরের কৌশলগত গভীরে আঘাত হানছে। পরিস্থিতি পুরো বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব ধাক্কা দেবে।’
যদিও হুথি মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুসসালাম এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌচলাচলের স্বাধীনতা সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। এই অঞ্চল নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ নেই।
এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) শুক্রবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও তাইজ গভর্নরেটে তীব্র সংঘাতের কারণে মাত্র এক সপ্তাহে ৪৬ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এ সংখ্যা প্রতি মুহূর্তে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
