৪০ ঘণ্টা পর বাংলাদেশির মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হকের মরদেহ ৪০ ঘণ্টা পর ফেরত দিয়েছে বিএসএফ।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার জিনাজপুর বিওপির আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

নিহত আসাদুল হক (৩৮) পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে পীরগঞ্জের চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর পিলারের কাছে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টার সময় বিএসএফের গুলিতে আসাদুলসহ তিন বাংলাদেশি আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হকের মৃত্যু হয়।

আহত অপর দুজন হলেন-পীরগঞ্জ উপজেলার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম ও নারায়ণের ছেলে শ্রী উদা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদেরকেও কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পরে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোররাতে সীমান্ত পিলার ৩৩৩-এর কাছে ভারতের উত্তর দিনাজপুরের ৬৩ নম্বর চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তিনজন আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে আসাদুলের মৃত্যু হয়।

আসাদুলের মৃত্যুর ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে রোববার দুপুরে চান্দেরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান এবং বিএসএফের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে আসাদুল হকের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ১০টার দিকে বিএসএফ মরদেহটি বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা করেছি। তারা প্রক্রিয়া শেষ করে আজ রাত ১০ টার দিকে আসাদুলের মরদেহ ফেরত দেয়।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *