✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সশস্ত্র সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, ইয়েমেনের মারিব প্রদেশের আকাশসীমায় ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালানোর সময় সৌদি যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
বিমানটি ধ্বংস করতে স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইয়াহিয়া সারি আরও দাবি করেন, সৌদি আরব তাদের লক্ষ্য করে প্রায় ৪৫০টি বিমান হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে প্রায় চার মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে হুথিরা। ভিডিওতে প্রথমে একটি যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে হামলার দৃশ্য দেখা যায়। এরপর রাতের অন্ধকারে মাটিতে আগুন ও ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
ভিডিওর পরের অংশে দিনের আলোয় পাথুরে মরুভূমির মতো এলাকায় ছড়িয়ে থাকা পোড়া ও ভাঙা ধাতব অংশ দেখানো হয়। একটি বড় উল্লম্ব লেজের অংশও দেখা যায়, যাতে সৌদি সামরিক বিমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ধ্বংসাবশেষের আশপাশে সশস্ত্র কয়েকজন ব্যক্তিকেও দেখা যায়। তাদের কারও পরনে সামরিক পোশাক, আবার কেউ ইয়েমেনি ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা ছিলেন। কয়েকজনের হাতে রাইফেল ছিল।
ভিডিওতে হুথি যোদ্ধাদের পিকআপে করে মরুভূমির দিকে ছুটে যেতেও দেখা যায়। একপর্যায়ে তারা একটি এগিয়ে আসা গাড়ির দিকে গুলি চালায়। একজন যোদ্ধার কণ্ঠে ‘শত্রুকে বিচ্ছিন্ন করার’ অভিযান চালানোর কথা শোনা যায়।
এদিকে একই দিনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট অভিযোগ করেছে, হুথিরা পবিত্র মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে।
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই একটি ‘শত্রুতামূলক ড্রোন’ শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে।
আল-মালিকি ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও সেখানে থাকা মুসল্লি ও হাজিদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য ‘লাল রেখা’।
তিনি আরও বলেন, এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়েও মক্কা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের চেষ্টা হয়েছিল।
তবে মক্কা লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হুথিরা। তারা সৌদি আরবের এই দাবি ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে অভিহিত করেছে।
