✍︎ সাভার প্রতিনিধি ✍︎
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছেন।
এর মধ্যে এক নারীর লাশ রয়েছে। তার নাম জয়নব বেগম (৫৫)। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরের ইসরকান্দি এলাকার মো. আলীর স্ত্রী। এ ঘটনায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ ৪ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম লাশ উদ্ধারের এ তথ্য জানান।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে কারখানার বাউন্ডারির ভেতরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর লরিটিতে আগুন ধরে যায়। হঠাৎ বিস্ফোরণে পুরো গাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আশপাশে থাকা শ্রমিক ও পথচারীরা আহত হন।
খবর পেয়ে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটসহ মোট চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের ফায়ারফাইটার হাফিজুর রহমান জানান, ফায়ার সার্ভিসের চার ইউনিটের কর্মীরা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ একজন মারা গেছেন। তার নাম নজরুল ইসলাম (৩০)। চিকিৎসাধীন বাকি ৩ জন হলেন—কাঁচামাল বিক্রেতা সুজন মিয়া (২৫), তাঁর বাবা মুখলেস মিয়া (৪৫)। অপরজন গ্যাস পরিবহনের গাড়িচালক দগ্ধ নুর ইসলাম (৩০)।
নিহত নজরুলের ছেলে সামিউল ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। বর্তমানে আশুলিয়া শিমুলতলায় থাকেন। ওই কারখানার সামনে পেঁয়াজ-রসূন বিক্রি করতেন তাঁর বাবা। দুর্ঘটনার পর তিনি খবর পেয়ে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে গিয়ে তাঁর বাবাকে দেখতে পান। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
আহত মুখলেস মিয়া জানান, তারা বাবা-ছেলে আশুলিয়ার জামগড়া প্রীতি গ্রুপের পোশাক কারখানার সামনের রাস্তায় কাঁচামাল বিক্রি করেন। সন্ধ্যায় কারখানার ভেতরে বিকট একটি বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে বিভিন্ন লোহার জিনিসপত্র, ইট-পাটকেল, গ্লাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেগুলোই মাথায় এসে পড়ে সুজনের। আর তাঁর হাতে ও পায়ে আঘাত পান। সেখান থেকে আশপাশের লোকজন তাঁদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান জানান, আশুলিয়ার ঘটনা মোট ৪ জনকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের মধ্যে নজরুল নামে একজন মারা গেছে। ২ জন ক্যাজুয়ালিটি ও ১ জন বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন।
আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত ১৪ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
