ডিজিটাল ব্যাংক: রবিসহ ৫ প্রতিষ্ঠান পেল প্রাথমিক অনুমোদন

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

দেশে পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের প্রাথমিক অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসব ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়া হবে। এরপরই কার্যক্রম শুরু করতে পারবে ব্যাংকগুলো।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া ডিজিটাল ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, যার উদ্যোক্তা ভুটানের ডিকে ব্যাংক; বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, যার উদ্যোক্তা বিকাশের শেয়ারধারীরা; নোভা ডিজিটাল ব্যাংক, যার উদ্যোক্তা বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপ; বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক, যার উদ্যোক্তা রবির মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা লিমিটেড এবং কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দেশের ব্যাংকিং খাতে যখন আস্থা ও সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, ঠিক সেই সময় আর্থিক ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে ডিজিটাল ব্যাংক। দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় ধরে আলোচনা, নীতিমালা পরিবর্তন, আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও লাইসেন্স নিয়ে নানা জটিলতার পর অবশেষে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আবেদনপত্র নেয়। তখন ১৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা, মোবাইল অপারেটর, মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় ব্যাংকিং সক্ষমতা, উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা, মূলধন, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রাথমিকভাবে আটটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য বিবেচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ পাঁচটিকে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন গ্রহণ করে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিক্ষোভসহ নানা কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেই অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন আহসান এইচ মনসুর। বিএনপি সরকার গঠনের পর আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে নতুন করে আর কোনো আবেদন নেওয়া হয়নি। আগের আবেদন থেকেই চারটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে ২০২৪ সালের জুনে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসিকে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ২০২৩ সালের আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদ সভায় নগদ ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসিকে প্রাথমিক সম্মতিপত্র (এলওআই) দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার পতনের পর বিদেশে কোম্পানি খুলে এসব ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স স্থগিত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কড়ির নামে চূড়ান্ত লাইসেন্সও ইস্যু করা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের মালিকানায় যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত পাঁচটি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত ফিনক্লুশন ভেঞ্চারস পিটিই লিমিটেড এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত ব্লু হেভেন ভেঞ্চারস, অসিরিস ক্যাপিটাল পার্টনারস, জেন ফিনটেক ও ট্রুপে টেকনোলজিস রয়েছে।

দেশে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০২৩ সালে। ওই বছরের ২০ জুন আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ৫২টি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে নগদ ও কড়িকে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *