✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও প্রথম দফায় নিয়োগপত্র পাননি অনেকে। শেষ পর্যন্ত প্রাথমিকে নিয়োগবঞ্চিতদের জন্য দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র ইস্যু করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এরই মধ্যে রাজশাহী, পাবনা, রাজবাড়ী, খুলনাসহ অন্তত সাত জেলায় নিয়োগবঞ্চিতদের জন্য দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়েছে। অন্য জেলাগুলোতেও দু-এক দিনের মধ্যে নিয়োগবঞ্চিতদের হাতে নিয়োগপত্র পৌঁছাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রংপুর বিভাগের একজন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, রোববার সকালে বিভাগীয় উপপরিচালক বিভাগের আট শিক্ষা অফিসারকে নিয়ে বৈঠক করেছেন।
এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম দফায় নিয়োগ দেওয়ার পর যারা বঞ্চিত হয়েছেন তাদের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র ইস্যু করছি আমরা।’ তবে দ্বিতীয় দফায় যাচাইয়ের মানদণ্ড কি, সে বিষয়ে কিছু জানাতে রাজি হননি তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনায় নিয়োগপত্র ইস্যু করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমাকে যেহেতু এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেহেতু সারা দেশেই একই নির্দেশনা গেছে।’
প্রাথমিক নিয়োগ পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্তদের গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপত্র দেয় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তবে সারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ নিয়ে নানা অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে।
কোথাও দেখা যায়, উপজেলা পর্যায়ে মেধাতালিকায় প্রথম হলেও শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। ফৌজদারি কোনো মামলা না থাকলেও বাদ পড়েছেন অনেকে। তবে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও ঠিক কতজন নিয়োগপত্র পাননি তার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি সরকার।
চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও নিয়োগপত্র না পাওয়া নিয়ে সারা দেশে সমালোচনা শুরু হলে শনিবার ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এ নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫–এর নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন/ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
কোলে দেড় বছরের সন্তান। ভোলা থেকে ঢাকায় এসেছেন মিতু রানী দাস। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও এখনো নিয়োগপত্র হাতে পাননি তিনি। সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন এই প্রার্থী। শুধু মিতু নন, তার মতো দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শত শত প্রার্থী নিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। পরে বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন তারা।
তাদের দাবি, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তা স্পষ্ট করতে হবে এবং দ্রুত নিয়োগপত্র দিতে হবে।
ভোলা থেকে আসা মিতু রানী দাস বলেন, আর কী বলব, এই গরমে বাচ্চা নিয়ে আসা এতটা কষ্টকর। এটা একজন সাধারণ মানুষ সবাই বুঝতে পারে। এখন এই কষ্টটা আমাদের কেন হচ্ছে?
নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ জানতে পেরেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, এখনো জানতে পারিনি। আমার বাবা কৃষক। কৃষক পরিবারের সন্তান। গ্রামের ছোট পরিবার। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরেও নিয়োগপত্র না পাওয়া হতাশার।
নিয়োগপত্র দেওয়ার বিষয়ে কিছু জানতে পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে মিতু বলেন, না, এখনো আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রফিক ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করা এই প্রার্থী জানান, এর আগে তার দুটি সরকারি চাকরি হয়েছিল। একটি সমবায় অধিদপ্তরে এবং অন্যটি কারা অধিদপ্তরে। তবে বাড়ি থেকে দূরে পোস্টিং হওয়ায় তিনি দুটি চাকরিই ছেড়ে দেন।
তিনি বলেন, প্রাইমারিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরে আমার ইচ্ছা ছিল যে বাড়ির কাছাকাছি থেকে চাকরি করব, পাশাপাশি কিছু করব। এই কারণে আমি দুইটা জব ছেড়ে দিই।
তিনি আরও বলেন, ছেড়ে দেওয়ার পরে এই যে এখান থেকে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয় ২৪ তারিখে, ওইখানে আমার নাম আসে নাই। নাম যখন আসে নাই তখন ডিপিও স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলাম। উনারা বলল যে উনারা কিছুই জানে না, অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতে। এখন এই শাহবাগে দাঁড়িয়ে।
