অপহরণের ৪ ঘণ্টা পর ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার

✍︎ কক্সবাজার প্রতিনিধি ✍︎

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসানকে (২৭) বাড়ি ফেরার পথে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত জিসান কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার গভীর রাতে জিসান চকরিয়া সদর থেকে কাকারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের লোটনি গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় কাকারা গারা পাড়া রাস্তার মাথায় একটি মাইক্রোবাস নিয়ে তার গতিরোধ করে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশকে জানানো হলে খুটাখালী ন্যাশনাল পার্কের পাশ থেকে জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ছাত্রদল নেতার বাবা নাজেম উদ্দিন নাজুর অভিযোগ, তার ছেলেকে অপহরণ করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে।

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। 

পরিবারের সদস্যদের দাবি, অপহরণের পর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকার কবির টাওয়ারে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার লাশ মহাসড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

এদিকে, জিসানের বড় ভাই কায়সারের সঙ্গে কবির টাওয়ারের মালিক জকরিয়ার ছোট ভাই মিজানের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কায়সারের দাবি, জিসান অপহরণের প্রায় দুই ঘণ্টা আগে তাদের মধ্যে ওই কথোপকথন হয়।

ছড়িয়ে পড়া অডিওতে মিজানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা অপারগ হয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এজাহার লিখেছি। কালকে দিনের মধ্যে আপনার ভাইকে (জিসানকে) নিয়ে যদি সমাধানে না বসেন, তাহলে আমি আমার মতো সমাধানের রাস্তা খুঁজে নেব। আপনার ভাইকে খুঁজতে ৫০ জন রেডি আছে।’

ওই কথোপকথনে জিসানকে নিয়ে আরও কিছু বক্তব্য রয়েছে। তবে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি মিজানেরই কিনা, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় লোকজন সবুজবাগ আবাসিক এলাকার কবির টাওয়ারের পার্কিংয়ে সাদা রঙের একটি এক্স-নোহা গাড়ি দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে বাড়ির মালিক জকরিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে ফুটেজ দেখানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, জিসানকে কেন অপহরণ করা হয়েছিল এবং কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *