✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
রাজধানীর আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত দুই তরুণ পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে চাপাতি, সামুরাই ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে আদাবর থানার নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারসংলগ্ন মেলার মাঠের পেছনে খালপাড়ের ফাঁকা জায়গায় এ ঘটনা ঘটে।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্যামলী হাউজিংয়ের ৮ নম্বর সড়কের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আদাবর থানায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর একটি মামলা করা হয়। ওই মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছিল।
ওসি জানান, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, মামলার কয়েকজন আসামি নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারসংলগ্ন মেলার মাঠের পেছনে খালপাড়ে অবস্থান করছেন। পরে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাত থেকে আটজন দুষ্কৃতকারী তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশকে আক্রমণের চেষ্টা করে বলে জানান ওসি। এ সময় আত্মরক্ষার্থে কনস্টেবল মোশরেকুল ইসলামের হাতে থাকা শটগান দিয়ে পুলিশ দুটি গুলি ছোড়ে। এতে রাজিব হাওলাদার ও সাগর ওরফে ছোট বিগার নামে দুজন পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে রাজিব, সাগর, শাকিব ও রাশেদকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে স্টিলের ধারালো চাপাতি, সামুরাই ও কিরিস উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার রাজিব হাওলাদার মোহাম্মদপুরের আলোচিত বাবু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি। সাগর ওরফে ছোট বিগারের বিরুদ্ধে আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় আটটি মামলা রয়েছে। শাকিব ও রাশেদের বিরুদ্ধেও পাঁচটি করে মামলা রয়েছে।
গুলিবিদ্ধ রাজিব ও সাগরকে চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শ্যামলী হাউজিংয়ের ৮ নম্বর সড়কের বাড়ির মালিক আমিনুর রহমান খানের ভাতিজা মো. রাজু জানান, হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির মূল ফটক খুলে সবাইকে বের হয়ে যেতে বলে। ভেতর থেকে কেউ বের না হওয়ায় তারা বাইরে থেকে ‘টাকা দে। বাড়িতে থাকিস, টাকা দিস না। বের হ।’ বলে হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে চাপাতি ও রামদা দিয়ে গেটে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে।
রাজু বলেন, হামলাকারীরা বাড়ির গেটের সামনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে। পরে ইটের টুকরা দিয়ে দ্বিতীয় তলার আরও দুটি জানালার কাচও ভেঙে ফেলে।
