কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং নেতা রতন গ্রেফতার, আটক আরও ৩৬৩

✍︎ কুমিল্লা প্রতিনিধি ✍︎

কুমিল্লা নগরের আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপ (আর স্কোয়াড)’-এর প্রধান ইমরান হোসেন রতনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল শুক্রবার রাতে নগরের একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইমরান হোসেন রতনের নেতৃত্বে নগরে আধিপত্য বিস্তার, সংঘর্ষ, অস্ত্রের মহড়া, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট কুমিল্লা নগর উদ্যানের সামনের সড়কে শাহাদাত হোসেন নামের এক কিশোরকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় রতনের নাম আসে। ওই মামলায় র‍্যাব ছয়জনকে গ্রেফতার করেছিল। তখন র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মামলার প্রধান আসামি রতন ‘রতন গ্রুপের’ প্রধান এবং হত্যাকাণ্ডের হোতা।

২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা নগরের সার্কিট হাউস মোড় এলাকায় রতন ও ইগল গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দুই পক্ষের ১৬ জনকে গ্রেফতার করে।

২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল নগরের রানীর দিঘিরপাড়, তালপুকুরপাড় ও আদালতপাড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন পক্ষের অস্ত্রের মহড়া হয়। পরদিন রাতে সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে রতনসহ কয়েকজনকে গ্রেফতারের তথ্য প্রকাশ করা হয়।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক আরও ৩৬৩

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে আরও ৩৬৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পঞ্চম দফায় অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হলো।

শনিবার (৩ অক্টোবর) কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া কর্মকর্তা) লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সারা জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানায়, জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবেই জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চলছে। কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত রয়েছে এমন বিভিন্ন স্থান, আড্ডাস্থল ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন। পঞ্চম দফায় অভিযানে ৩৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, অভিযানে আটক ৩৬৩ জনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, উঠতি বয়সি কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নিয়মিত জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ অভিযান প্রতিনিয়ত চলবে।

এর আগে ৪ দফায় ১ হাজার ৬শ ৭২ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে যাদের অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বাকিদের মুচলেকা রেখে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *