✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর একদিনে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯০২ জন।
এর মধ্যে সর্বোচ্চ তিন জন মারা গেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায়। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু দাঁড়াল ২৭১ জনে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে সবশেষ মারা যাওয়াদের মধ্যে পাঁচ জন পুরুষ, চার জন নারী। মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ পুরুষ, ৫২ শতাংশ নারী।
রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯০২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৩৬০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৯৮৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮২ হাজার ৩৩৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৪০১ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে)। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০৬ জন, বরিশালে ২১৬ জন, চট্টগ্রামে ২৭২ জন, ময়মনসিংহে ৯৮ জন, রংপুরে ৬৬ জন এবং রাজশাহীতে ১০৫ জন। এর বাইরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার হাসপাতালে ২০৬ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার হাসপাতালে ২২৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ সংক্রমণ এবং মৃত্যুর রেকর্ড হয়। ওই মাসে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয় আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন।
চলতি বছর মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে ১ জন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন ও সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছে। অক্টোবরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২৬ জন।
২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মত।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে একলাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন।
২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৭০৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০০০ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৬ বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ৩০৪০ জনের।
দেশের প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় ২০০০ সালে। ওই বছর ৫ হাজার ৫৫১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়, আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়।
২০০০ সালের পরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে এলেও ২০১৯ সালে ডেঙ্গুতে ভয়াবহ পরিস্থিতি অতিক্রম করে দেশ। ২০১৯ সালে ১ লাখেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়, আর মৃত্যু হয় ১৭৯ জনের।
২০২০ সালে করোনার প্রকোপের মধ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কম ছিল। ২০২০ সালে ডেঙ্গুতে মারা যায় ৭ জন, ২০২১ সালে ১০৫ জন এবং ২০২২ সালে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়।
ঢাকার তুলনায় এর বাইরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০২৩ সালে ছিল দ্বিগুণের বেশি। সারা দেশের মৃত্যুর ৫৮ শতাংশই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের।
