ইউপি নির্বাচন: প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ ২১ জানুয়ারি

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎ 

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপের ভোট হবে ২১ জানুয়ারি। সোমবার (১২ অক্টোবর) ১৩তম কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। 

তিনি বলেন, চার হাজার ৩০০ এর মতো ইউপির ভোট ২৭ মের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে তাঁর সভাকক্ষে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে ইসি সানাউল্লাহ জানান, ইউপি নির্বাচনে পাঁচ ধাপে ভোটগ্রহণ করা হবে। প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হবে ২১ জানুয়ারি। দ্বিতীয় ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপ ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপ ১৩ মে ও পঞ্চম ধাপ ২৭ মে।

এর আগে ইসি সূত্র জানায়, সভার অ্যাজেন্ডায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ এবং পারসোনালাইজেশন সেন্টারের যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, কার্ড ছাপানো, বকেয়া বিল পরিশোধ ও নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন পদক নীতিমালা ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন ও বিবিধ বিষয় রাখা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৮০ ইউপি রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে মেয়াদ শেষ হবে ৩ হাজার ৬৩ ইউপি পর্ষদের এবং ফেব্রুয়ারির মধ্যে আরও ১ হাজার ৪৮ টির। স্থানীয় সরকার (ইউপি) আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। কোনো কারণে পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হলে, তার পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। ওই সময়ে প্রশাসক নিয়োগ করবে সরকার। তবে দৈব-দুর্বিপাকের কারণে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

২০২১ সালে ছয় ধাপ ও একটি বিশেষ ধাপে ইউপি নির্বাচন হলেও এবার পাঁচ ধাপে সবগুলো ইউপির নির্বাচন করতে চায় ইসি। এ ক্ষেত্রে প্রতি ধাপে ৯০০-এর বেশি ইউপির ভোট করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দুই ধাপে এবং ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগে তৃতীয় ধাপের নির্বাচন হবে। রমজান মাসের পরে ৬ জুনের আগে বাকি দুই ধাপের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখও আজকের বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে। এর মধ্যে কোনো ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করা সম্ভব না হলে পরবর্তী সময়ে সুবিধাজনক তারিখে ভোট গ্রহণ করা হবে।

কমিশন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রথম তিন ধাপের নির্বাচনের মধ্যে কমপক্ষে ১০ দিনের বিরতি থাকতে পারে। পাঁচ ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরও কোনো ইউপির ভোট বাকি থাকলে, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রথম ধাপে জেলা সদরের সব ইউপির ভোট করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। যেসব জেলার সদর সিটি করপোরেশন এলাকায়, সেসব ক্ষেত্রে নিকটবর্তী উপজেলাগুলোর ইউনিয়ন পরিষদে প্রথম ধাপে ভোট করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচী ঘোষণা করেছিল ইসি। ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে নির্বাচন করার প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল সংস্থাটি। তবে ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠকে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন করার অসুবিধার কথা তুলে ধরা হয়। তখন ইসি জানিয়েছিল, আরও আলোচনা করে নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীর জামানত পাঁচগুণ বাড়িয়েছে  নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত পাঁচ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য (মেম্বর) প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে নির্বাচনী ব্যয়সীমা বেড়েছে দ্বিগুণ। নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

ইসি প্রকাশিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনীর চূড়ান্ত গেজেটে এসব বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এই বিধিমালার গেজেটে গত বৃহস্পতিবার ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষর করলেও বুধবার প্রকাশ করা হয়।

গত মাসে ইউপি নির্বাচন বিধিমালার সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত করে সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছিল ইসি। মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার পর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে সংস্থাটি। 

সংশোধিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান নির্বাচনের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা ট্রেজারি চালান, পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুকূলে জামা দিতে হবে। কোনো প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলেও একাধিক জামানতের প্রয়োজন হবে না।

এতে জামানত ফেরতের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ পেলে তার জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য কোনো প্রার্থী সরকারি গেজেটে নির্বাচনি ফলাফল প্রকাশের পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে তা গ্রহণ না করলে ওই অর্থ অফেরৎযোগ্য হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জন্য ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নির্বাচনি প্রচারণার ক্ষেত্রে এই বিধিমালার বিধান প্রযোজ্য হবে। ওই বিধিমালার পরিপন্থি কোনো কার্যক্রমে অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য তপশিলি ব্যাংকে আলাদা হিসাব খোলার বিধানও রাখা হয়েছে। নির্বাচনি ব্যয়ের সব অর্থ ওই হিসাব থেকে ব্যয় করতে হবে। কোনো খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয় হলে তা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *