রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপন

✍︎ পাবনা প্রতিনিধি ✍︎

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এপিসিএস) স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রাশিয়ার বাইরে রোসাটমের নির্মিত প্রথম প্রকল্প হিসেবে রূপপুরে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রোসাটম)।

এ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম নামের একটি বিশেষ সফটওয়্যার। ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তিতে তৈরি এ সফটওয়্যার বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বিচ্যুতি শনাক্ত করতে পারবে। প্রথম ইউনিটে সফটওয়্যারটি যুক্ত হয়েছে এবং প্রাথমিক চালুকরণ কার্যক্রমে সহায়তা করছে। দ্বিতীয় ইউনিটেও এটি স্থাপন করা হবে।

রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার সবচেয়ে বড় প্রকল্পই নয়, আধুনিক স্বয়ংক্রিয়করণ ও নিয়ন্ত্রণপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি আমাদের একটি অগ্রণী প্রকল্প। বিদেশে রোসাটমের নির্মিত কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই প্রথম অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, এ ব্যবস্থা জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সময় কমাবে, পরিচালন ব্যয় হ্রাস করবে এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের নির্ভরযোগ্য সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, এ ব্যবস্থা জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সময় কমাবে, পরিচালন ব্যয় হ্রাস করবে এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের নির্ভরযোগ্য সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

রোসাটমের অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস (আরএএসইউ) থেকে সরবরাহ করা এ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ৪৩টি সিস্টেমের অধীনে প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতি রয়েছে। এসব যন্ত্রের মাধ্যমে চুল্লির স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াসংশ্লিষ্ট সাত হাজারের বেশি প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনায় সহায়তা মিলবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এআইসিএস নামের ব্যবস্থাটি ৩৬০টি প্রক্রিয়াসংশ্লিষ্ট সিস্টেম থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বিচ্যুতি শনাক্ত করতে পারে। পাশাপাশি, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে ৮০টির বেশি নির্দেশিকার ভিত্তিতে অপারেটরদের পরামর্শ দেয়। জটিল পরিচালনাসংক্রান্ত তথ্য সহজভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে এটি অপারেটরদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে সহায়তা করবে।

প্রসঙ্গত, জেনারেশন ৩+ প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি নিয়ে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট।

রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হবে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন একটি উৎস যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতারও নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

গত ২৮ এপ্রিল রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি বা ফুয়েল লোডিং শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে কমিশনিং কার্যক্রম দুই মাসের বেশি সময় পিছিয়ে যায়। বি-২ লাইসেন্স পাওয়ার মাধ্যমে সেই বাধা দূর হলো।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় পদ্মা নদীর তীরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি রিঅ্যাক্টর রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পরমাণু শক্তি করপোরেশন ‘রোসাটম’-এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট এটি নির্মাণ করছে।

১২শ মেগাওয়াট ধারণ সম্পন্ন ২টি ইউনিটের মাধ্যমে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ শুরু হয় ২০১৩ সালে। রাশিয়ার সহযোগিতায় এটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার ওপরে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *