✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৩)।
বৃহস্পতিবার এসআরবির একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে ওই পাঁচজনের জানাননি সূত্রটি।
এসআরবি জানায়, ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত অর্থদাতাদের ধরতে অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।
গত শনিবার যুব উন্নয়নের ওই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা। অভিযোগ তদন্তে শনিবারই পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। যদিও কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি।
গত ১০ অক্টোবর প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ওইদিন সকাল ১১টা থেকে ঢাকার ৯৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে, পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।
প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা স্থগিতের কারণে বিক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্র সংলগ্ন সড়কগুলো আটকে বিক্ষোভ করতে শুরু করেন এবং দ্রুত নতুন করে পরীক্ষা আয়োজনের দাবি জানান। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানজট তৈরি হয়। মতিঝিল, শাহবাগ, ধানমন্ডি, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজট তৈরি হলে বিপাকে পড়ে নগরবাসী। পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার পর থেকে বিক্ষোভকারীরা ধীরে ধীরে সরে যাওয়ায় সড়কগুলো স্বাভাবিক হতে থাকে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করা হয়েছে।কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (ফিন্যান্স অ্যান্ড পারফরমেন্স ম্যানেজমেন্ট), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (সিড ফাইন্যান্সিং)। এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন অধিশাখা) কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
পরীক্ষার্থীরা জানান, নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় এসেছিলেন তারা। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগেই তা বাতিল হওয়ায় ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদত্যাগ দাবি করেন।
