✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক ✍︎
দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সৌদি আরবের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। এই দণ্ড কার্যকর করার আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সেখানকার কূটনৈতিক মিশনকে কিছুই জানানো হয়নি।
শনিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) মক্কা অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর এবং স্মৃতি আকতার নামের এই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশকে কিছু জানানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ নিয়ে সরকার এখনো কিছু জানতে পারেনি। তবে বাংলাদেশ চিঠি দিয়ে তথ্য জানতে চেয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের শ্রম উইং থেকে আসা বার্তা অনুযায়ী, দুই বাংলাদেশি নাগরিক মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে ব্যভিচারে লিপ্ত ছিলেন, যা দেশটির আইনে অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এই অপরাধে সৌদি আদালত আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সরকার কোনো কিছুই পায়নি। বাংলাদেশ তাই দুজনের বিস্তারিত জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সৌদি আরবের একটি নিজস্ব আইনি কাঠামো রয়েছে। সেই কাঠামো অনুযায়ী কেউ গর্হিত অপরাধ করলে সাজা পেতে হয়। সৌদিতে দুই বাংলাদেশির এই মৃত্যুদণ্ড আমাদের জন্য বড় শিক্ষা।’
সৌদি আরব চিঠির জবাব দিলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মরদেহ দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ জানা সম্ভব হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা যায়, মক্কার একটি মসজিদে পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার সময় দুই বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্ত শেষে আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র পেশ করা হয়।
মামলাটির স্থান ও সময়ের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং অপরাধের মাত্রা অত্যন্ত ভয়াবহ বিবেচনা করে বিচারক শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ (বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তি) বিধানে তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত রায় বহাল রাখলে রাজকীয় ফরমান জারির মাধ্যমে তা কার্যকর করা হয়।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরব দুই দেশই কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী। উক্ত সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে কোনো দেশের নাগরিক গ্রেফতার হলে বন্দীর অনুরোধে আটককারী দেশকে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেট বা মিশনকে অবহিত করতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তার সুযোগ দিতে হয়।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি। সৌদি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরই বিষয়টি তাদের নজরে আসে এবং গত শুক্রবার জেদ্দার কনস্যুলেট থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত জানতে চিঠি দেওয়া হয়।
