✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
স্কুলশিক্ষা সংস্কার ও জীবনযাপনের ব্যয় বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। বিক্ষোভে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১৭ অক্টোবর শনিবার ফ্রান্সজুড়ে গ্রেফতার হয়েছেন ২ হাজার তিনশ ৯৭ জন। এছাড়া বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাতে গত এক মাসে ফ্রান্সে আহত হয়েছেন ১ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা।
রোববার ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, এ সহিংসতার কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা, সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি সাধান এবং জননিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টির অভিযোগে এ পর্যন্ত ২৩৯৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের হামলায় ৯৯৭ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য ও কর্মকর্তা আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০টি দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত পুলিশ-নিরপত্তাতসদস্য ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ শনিবার ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতার জন্ম দেয়। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৩৯৭ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ৯৯৭ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর।
খুচরা ও বাণিজ্য খাতের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংগঠনের প্রধান জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৫০০টি দেকানের বেশিরভাগই লুটপাটের শিকার। ফ্রান্সের খুচরা ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিটেইল অ্যান্ড ট্রেড ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্দ্রে বোম্পার এলসিআই টেলিভিশনকে বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতির পরিমাণ ‘কয়েক শ’ মিলিয়ন ইউরো’ হতে পারে। তবে তিনি জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট হিসাব দেওয়ার সময় এখনও হয়নি।
গত সপ্তাহে ইতালির কয়েকটি শহরেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। তবে ফ্রান্সের তুলনায় সেখানে আন্দোলনের ব্যাপ্তি ছিল কম। মিলানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
বেলজিয়ামেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। এছাড়া পর্তুগালে আন্দোলন শুরু হয়েছে।
রোববার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই সহিংসতার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, “আজ আমরা ক্ষুব্ধ, লজ্জিত। যে অভূতপূর্ব ও অনিয়ন্ত্রিত সহিংসতা চলছে, তার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। যারা আন্দোলনের নামে ধংসযজ্ঞ চালিয়েছে, ভাঙচুর-লুটপাট করেছে, তাদের অবশ্যই মূল্য দিতে হবে।”
“দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে সরকার আপসহীন থাকবে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা শহর, সরকারি ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে মেয়রদের সাথে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেবেন। আমাদের শহরের রাস্তাঘাট এভাবে তছনছ হতে দেখাটা অসহনীয় “
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ।
