✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘদিন হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ থাকায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
দাম বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দুই ব্র্যান্ড ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয়েরই। শুক্রবার প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয়েছে ১১৬ দশমিক ৭২ ডলারে। আগের দিন বৃহস্পতিবারের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৫৫ ডলার বা শতকরা হিসেবে ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ।
একই দিন ডব্লিউটিআইয়ের প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয়েছে ১০৩ দশমিক ২৭ ডলারে। আগের দিন বৃহস্পতিবারের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ ডলার বা শতকরা হিসেবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
এর আগে সর্বশেষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের এই মূল্যচিত্র দেখা গিয়েছিল গত ২৯ এপ্রিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সামরিক অভিযান ও পাল্টাপাল্টি আঘাত তুঙ্গে ছিল।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে শতকরা ৬ শতাংশ; আর ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার ঘটনা আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং তেল সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে সরবরাহ ঝুঁকির আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করেছে।
এ মূল্যবৃদ্ধির জেরে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটের জ্বালানি খাত ২.৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ার সূচকগুলো পতনের মধ্য দিয়ে দিন শেষ করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা হচ্ছে না। শিগগিরই কিছু একটা ঘটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের এই অস্পষ্ট বক্তব্যের মধ্যে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। পত্রিকাটি মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
এদিকে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এসব হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব থেকে জরুরি নয়, এমন সব মার্কিন সরকারি কর্মীকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শাইবাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। একই দিন দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও আটজন আহত হন।
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো তাদের কর্মীদের ধাহরানে অবস্থিত প্রধান কার্যালয় ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
