এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার)। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান শনিবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে, শিক্ষাবোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এখন ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সেই বিজ্ঞপ্তিকে সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ ও সময় উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডগুলোর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। পরীক্ষা ও ফলাফল সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত, বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।

এই অবস্থায় ওই বিজ্ঞপ্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস বা শেয়ার না করার জন্য পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল কমিটি। সেই সঙ্গে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই, শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া যায়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। সারা দেশে তাদের জন্য ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল। এ বোর্ডের ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়। রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোর বোর্ডে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন এবং কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়।

এছাড়া ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেট বোর্ডে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী ছিল।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

২০২৫ সালে সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৪৭ হাজার ২৪২ জন। এরমধ্যে উত্তীর্ণ হন ৫ লাখ ৯৮ হাজার ১৬৬ জন। পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশ। ছাত্রদের মধ্যে পাসের হার ৫২ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ছাত্রীদের মধ্যে পাসের হার ছিল ৬১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছিলেন ৬৩ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী। মাদরাসা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৪ হাজার ২৬৮ জন শিক্ষার্থী ও কারিগরি বোর্ডে পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬১০ জন।

এদিকে, এসএসসি ও এইচএসসিসহ সমমানের পাবলিক পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে দ্রুততম মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে এইচএসসি ও সমমানে ফেল করা শিক্ষার্থীদের দুই মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *