নাটোরে ছাত্রদল নেতা হত্যা: এমপিপুত্র ৩ দিনের রিমান্ডে

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

নাটোরের গুরুদাসপুরের পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল হত্যার ঘটনায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

কোর্ট ইন্সপেক্টর আসমাউল হক বলেন, আদালতের কাছে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখার আলম বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে বিজ্ঞ আদালতের কাছে আসামির ১০ দিন রিমান্ড চাইলে বিজ্ঞ আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় মিন্টুকে আদালতে তুললে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান এই রায় দেন।

নাটোরের গুরুদাসপুরে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর আহত পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম মারা গেছেন। এই ঘটনায় নাটোর জেলা গোয়েন্দা ডিবি পুলিশের একটি টিম নাটোর বড়াইগ্রাম গুরুদাসপুর এর এমপি আব্দুল আজিজের বড় ছেলে মিন্টুকে নিজ বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। 

এই ঘটনায় (২৭ অক্টোবর) রাত ১টা ৪০ মিনিটে মিন্টুকে নাটোর জেলা গোয়েন্দা ডিবি পুলিশের একটি টিম তাকে নাটোর জেলা গোয়েন্দা ডিবি পুলিশের অফিসে নিয়ে আসেন। রাতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। শাকিল গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাছারিপাড়া এলাকার রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় একটি মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেট ও মাস্ক পরা দুই যুবক শাকিলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এ সময় প্রাণে বাঁচতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। পরে দুর্বৃত্তরা তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। একপর্যায়ে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান তারা। এতে শাকিলের হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *