সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ ৪ দিনের রিমান্ডে

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎ 

ঢাকার পল্লবী থানার রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান এ আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, তাদের সঙ্গে দেশি ও বিদেশি গুপ্তচরের যোগাযোগ রয়েছে।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামির পক্ষে আইনজীবী জামালউদ্দিন ভূঁইয়া রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আর্জি জানান।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বকর ছিদ্দিক এ তথ্য দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা-ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ইন্সপেক্টর শেখ বশির আহমেদ তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, এ আসামি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাসহ অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় ‘সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সাথে যুক্ত থেকে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংস উস্কানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক প্লাটফর্মে প্রচার করছেন’।

এছাড়া কিছু অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে তিনি ‘আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন’ বলে আবেদনে বলা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, তারা ফেসবুকসহ বিভিন্ন পেইজের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে এর মাধ্যমে ‘সহিংসতা, অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো’ কন্টেন্ট তৈরি এবং পোস্ট দিয়ে দেশকে ‘অস্থিতিশীল’ করে তোলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ‘কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে অবৈধ অর্থায়ন করে’ সন্ত্রাসবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত আছে।

আবেদনে বলা হয়, এ সংগঠনের কাজ মূলত দেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীর ভেতরে ‘বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা এবং তারা সক্রিয়ভাবে নিজেরা অংশগ্রহণ করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের সার্বভৌম নস্যাৎ করা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইনবলে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ‘ঘৃণা ও অবজ্ঞা’ প্রকাশ করে বিদ্বেষ সৃষ্টি করেছে ‘ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট’।

গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাঁকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।

রোববার সকালে ডিএমপির ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, খন্দকার আব্দুল হাফিজের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অভিযোগে মামলা হতে পারে।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগ দেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজ। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন তিনি। এ সময় সামরিক বাহিনীর সাবেক আরও কয়েকজন কর্মকর্তা আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *