১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৮৩৭ টাকা থেকে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২০৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বিইআরসি জানিয়েছে, সোমবার রাত ৮টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে।

গত ২৯ অক্টোবর ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৮৩৭ থেকে বাড়িয়ে ১৯৭৬ টাকা করার প্রস্তাব করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।

ভোক্তাপর্যায়ে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নভেম্বর মাসের জন্য মূসকসহ প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৭ টাকা ৩৩ পয়সা বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার রাতে বিইআরসির এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করা হয়। নির্ধারিত দাম আজ সোমবার রাত ৮টা থেকেই কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নভেম্বর মাসের জন্য সৌদি আরামকোর ঘোষিত প্রোপেন ও বিউটেনের চুক্তিমূল্য (সৌদি সিপি) বৃদ্ধির কারণে এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে হয় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। পরে ভ্যাট কমায় ১৫ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪১ টাকা। মার্চে অপরিবর্তিত থাকার পর এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বেড়ে দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় ওঠে। এরপর জুনে ৫৫ টাকা এবং জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। আগস্টে আবার ৭০ টাকা বেড়ে দাম হয় ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এক মাসের ব্যবধানেই এবার সেই দাম আবার ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হলো। সবশেষ ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৮৩৭ টাকা থেকে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২০৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট চলছে। সেখানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন দর ঘোষণার পর বাজারে ভোক্তার ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবার এলপিজির মাসভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ৯৭৫ টাকা। এরপর কখনও দাম বেড়েছে, কখনও কমেছে। তবে কমার তুলনায় বাড়ার প্রবণতাই বেশি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়লেও যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা কমে আসে। এরপর কয়েক মাস ধরে বাজারে দামের ওঠানামা চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বয় করেই দেশের বাজারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *