আশুলিয়ায় ২৬৪ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎

ঢাকার আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের অসন্তোষের জেরে সোমবার ২৬৪টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক ছাঁটাই, কালো তালিকাভুক্ত না করাসহ তিন দফা দাবিতে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও লাঠি নিক্ষেপ করেন। এতে অন্তত ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

শিল্প পুলিশ ও কারখানা সূত্রে জানা যায়, সকালে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাড়ইপাড়া এলাকায় অবস্থান নেন পোশাকশ্রমিকেরা। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় নিউএজ গ্রুপের দুটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সকালে কাজে যোগ দিলেও উৎপাদন বন্ধ রেখে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তাঁরা কারখানা থেকে বের হয়ে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে জড়ো হন। বেলা ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা নরসিংহপুরে হা-মীম গ্রুপের একটি কারখানার সামনে রাখা কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে গাড়িটির সামনের অংশ পুড়ে যায়।

শ্রমিকেরা পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেড, জনরন সোয়েটার লিমিটেড, ফেরারি গার্মেন্টস লিমিটেড, ডেনিটেক্স লিমিটেড, আনলিমা টেক্সটাইল লিমিটেড, আল ইসলাম টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিকিউ ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও লাঠি নিক্ষেপ করেন। এতে অন্তত ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে নিট এশিয়া, আল-মুসলিম, ট্রাউজার লাইন, অনন্ত গার্মেন্টসসহ আশুলিয়ার ২৬৪টি কারখানায় কর্তৃপক্ষ আজকের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। ছুটি ঘোষণার পর শ্রমিকেরা সড়কে নেমে এলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, সকালে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। নিউএজ পোশাক কারখানার দুই শ্রমিককে আটকের প্রতিবাদে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে গ্রেফতারের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের মুখে যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে কর্তৃপক্ষ ২৬৪টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে। দুপুরের পর শ্রমিকেরা বাসায় ফিরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ঢাকার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, পোশাকশিল্পে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *