✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও আওয়ামীপন্থি সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
৪ নভেম্বর (বুধবার) রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ডিবিসি টেলিভিশনের কার্যালয় থেকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) মো. আখতার হোসেন।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তাকে ডিবি পুলিশ নিয়ে এসেছে। তার সঙ্গে কথা বলছে। আটক বা গ্রেফতারের বিষয়টি এখনো নয়। তার সঙ্গে কথা বলছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
এ বিষয়ে ডিবিসি নিউজের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মুক্তাদির অনিক সাংবাদিকদের বলেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাহেবকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টা সেটা আসলে আমরা অনেক পরে এসে জানতে পারি। আমরা যতটুকু জেনেছি উনি অফিস থেকে যখন বের হচ্ছিলেন, তখন ডিবি এসেছে। ডিবি এসে ওনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে। কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেটা এখনো পর্যন্ত আমরা ক্লিয়ার না। বাট আমরা কিছু জিনিস বেইজ করে হয়তো বলতে পারি, হয়তো জুলাই রেভুলেশনের সময়ের যে মামলা ছিল, সেই বিষয়ে কি না। আমরাও ডিবিসির পক্ষ থেকে আসলে জানার চেষ্টা করছি যে কেন ওনাকে আটক করা হলো।
ডিবিসির সিনিয়র রিপোর্টার এবং ক্রাইম চিফ রাজীব ঘোষের বিষয়ে বলেন, উনি সিনিয়র একজন রিপোর্টার। ওনার সঙ্গে ডিবির একটা ভালো সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে ওনার ভালো সম্পর্ক আছে, সেই সুবাদে বলেছে, ‘আসেন আপনার সঙ্গে একটু কথা বলি যে ব্যাপারটা কী’।
ইকবাল সোবহান ডিবিসির কোনো পদে রয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, না, ইকবাল সোবহান চৌধুরী এখন ডিবিসিতে কোনো পদে নেই। উনি অতীতে ডিবিসির চেয়ারম্যান ছিলেন।
ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আখতার হোসেনের বক্তব্যেও দখলবাজির বিষয়টি আঁচ পাওয়া যায়। তিনি জানিয়েছেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবিতে নেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মূলত ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান পদ দাবি করে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা পুলিশ পদক্ষেপ নেয় বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতার মধ্যে গণমাধ্যমকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা তৈরির অভিযোগ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব অস্থিরতার পেছনে আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, শিল্প খাতের অস্থিরতার পাশাপাশি গণমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চলমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি।
তবে সম্প্রতি তার কার্যক্রমে গোয়েন্দাদের কাছে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার তথ্য আছে। পোশাক খাত নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে তারা কিছুদিন ধরে আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকদের নিয়ে মিডিয়া দখল করতে একাধিক গোপন বৈঠক করেছেন। এরই অংশ হিসেবে ডিবিসি টেলিভিশন দখলের চেষ্টা হয়েছে।
এছাড়াও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ফেনী-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী। তবে ওই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার সরকারে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
