জুলাই হত্যা মামলা: সাংবাদিক ইকবাল সোবহান কারাগারে

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎  

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আরিফ হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন।

দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন। এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তার স্বাস্থ্য ও বয়স বিবেচনায় জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালীর ডিবিসি চ্যানেলের কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় রাজীব ঘোষ নামে আরেকজন সাংবাদিককেও আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাজীব ঘোষকে বুধবার মধ্যরাতে ছেড়ে দিলেও ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর কথা জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজার রোডে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গোলাগুলিতে চোখে গুলি লাগে লর্ড হার্ডিঞ্জ ফাযিল মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ আরিফের। চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরিফের বাবা ইউসুফ ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ২৩৩ জনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। মামলার ৫৩ নম্বর আসামি হিসেবে সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীর নাম রয়েছে।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপরও তিনি মাঝেমধ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে আসা-যাওয়া করতেন। বুধবার দুপুরের দিকে অফিসে আসেন তিনি। বিকেল ৩টার দিকে তিনি কার্যালয় থেকে বের হলে ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যান। সে সময় রাজীব ঘোষকেও নিয়ে যান ডিবি পুলিশের সদস্যরা।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি।

তবে সম্প্রতি তার কার্যক্রমে গোয়েন্দাদের কাছে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার তথ্য আছে। পোশাক খাত নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে তারা কিছুদিন ধরে আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকদের নিয়ে মিডিয়া দখল করতে একাধিক গোপন বৈঠক করেছেন। এরই অংশ হিসেবে ডিবিসি টেলিভিশন দখলের চেষ্টা হয়েছে।

এছাড়াও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ফেনী-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী। তবে ওই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার সরকারে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *