✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ✍︎
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি খাতের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি খাতনির্ভর নাসডাকের শেয়ারসূচক বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়। এতে মাত্র এক দিনেই নাসডাকের আনুমানিক ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন (আড়াই লাখ কোটি) ডলার বাজারমূল্য উধাও হয়েছে যায়। একই সঙ্গে ওয়ালস্ট্রিটের অন্য প্রধান শেয়ারসূচকগুলোও বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া দরপতনের এই ধস শুক্রবার এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারেও ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবেদনে অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এই ধসের কারণে অ্যাপল, এনভিডিয়া ও টেসলার মতো শীর্ষ সাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান (যাদের ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ বলা হয়) সম্মিলিতভাবে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূলধন হারিয়েছে। এর মধ্যে এনভিডিয়ার শেয়ার দর ৯ শতাংশের বেশি কমেছে। অন্যদিকে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ার যথাক্রমে ৮ শতাংশ ও প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে, যার ফলে তার কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি কমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের এই ধস শুক্রবার এশিয়ার বাজারেও পড়েছে। জাপানের নিক্কেই শেয়ারসূচক ৬ শতাংশ কমে দিন শেষ করে। এছাড়া মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিওক্সিয়া ও টোকিও ইলেকট্রনের শেয়ারেও বড় দরপতন দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের সূচক ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। এছাড়া কসপির সূচকও এক দিনেই ৬ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে, ইউরোপের বাজারগুলোও শুক্রবার দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু করে। তবে সেখানে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম হওয়ায় ধস তুলনামূলকভাবে কম ছিল। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ এর সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং জার্মানির ড্যাক্সের সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
গত বছরের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবারের আগপর্যন্ত নাসডাক সূচকের এত বড় দরপতন আর দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের অন্যান্য সূচকও বড় পতনের মুখে পড়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও ডাও জোনস সূচকও কমেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর ১ দিনে এ দুটি সূচকও এত বড় পতনের মুখে আর কখনো পড়েনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে শেয়ারের এ দরপতনের অন্যতম কারণ টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনাহোস -এর জয়। এআই প্রযুক্তির বিকাশে যুক্তরাষ্ট্রের এ অঙ্গরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গুগল, মেটা, ওরাকল ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠান সেখানে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। তবে নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনাহোসে নির্বাচনী প্রচারের সময় অঙ্গরাজ্যে সাময়িকভাবে ডেটা সেন্টার (তথ্যকেন্দ্র) নির্মাণ বন্ধ রাখা এবং এ খাতে বিনিয়োগকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কিছু করছাড় প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
টেক্সাসের মতো যেসব অঙ্গরাজ্যে বড় বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ করছে, সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয়ের পর এআই খাতের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা চিপ নির্মাতা ও তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সরঞ্জাম সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর শেয়ার ব্যাপক হারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রায় ৪৫ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন ইলন মাস্ক। দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে কোনো ব্যক্তির এটাই সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অনুদান। তবে বিপুল অর্থ খরচ করেও ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় ঠেকাতে পারেননি তিনি। এ পরিস্থিতিতে তাঁর ব্যবসা–বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে, এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল বেরোতেই দেখা গেল, ইলন মাস্কের মালিকানাধীন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টেসলা ও মহাকাশযানসংশ্লিষ্ট কোম্পানি স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে। ফলে তাঁর সম্পদের মূল্যও দ্রুত কমতে থাকে। ফোবর্সের রিয়েল টাইম হিসাবে, আজ সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময়) ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে।
