এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণ: ১০৩৭৭১৭টি আবেদন

✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎ 

এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়নে মাত্র ৭ দিনে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি খাতা পুনরায় দেখার আবেদন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এটিই এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে সর্বোচ্চ আবেদনের রেকর্ড।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নির্ধারিত সময়ে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছেন। তাদের একজন একাধিক বিষয় এবং পত্রের পুনর্নিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জমা দিয়েছেন। এতে মোট আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্যমতে, এর আগে ২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ২ লাখ ২৬ হাজার ৫৬১ জন পরীক্ষার্থী ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৮টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন।

তার আগের বছর অর্থাৎ, ২০২৪ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ৫ লাখ ৮ হাজার ১১৬টি আবেদন জমা পড়েছিল।

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, গত ১ নভেম্বর সকাল থেকে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নিয়েছি। আজ ৭ নভেম্বর এ প্রক্রিয়ার নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে। তবে শেষ সময়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আবেদনে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। অনলাইনে ত্রুটির কারণে শেষদিকে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেনি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সময় কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। সেটি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বা সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা সময় বাড়ানো হতে পারে।

এদিকে, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরদিন অর্থাৎ, ১ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন শুরু হয়। এ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত ৮টায়। পরে সময় বাড়ানো হলে তা ঢাকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তিরত মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড কমিটির সভাপতি।

এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়নের ফল আগামী ২৭ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু।

রোববার বুয়েটের কাছ থেকে আবেদনের ডাটা সংগ্রহ করা হবে। ৯ নভেম্বর কম্পিউটার সেল থেকে উত্তরপত্রের তথ্য সংবলিত তালিকা ও বিষয়ওয়ারী তালিকা স্ব স্ব শাখায় পাঠানো হবে। ১২ নভেম্বরের মধ্যে পুনর্মূল্যায়নের পরীক্ষক নিয়োগ এবং প্রধান পরীক্ষকদের কাছ থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ করা হবে।

১৩ থেকে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষকদের ব্রিফিং ও পুনর্মূল্যায়নের কাজ শুরু করা হবে। ২০ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষকদের কম্পিউটার সেলে তথ্য পাঠাতে হবে। ২১-২৩ নভেম্বর কম্পিউটার সেলে পরিবর্তিত নম্বর এন্ট্রি ও উত্তরপত্রের কোড যাচাই করা হবে। ২৪-২৬ নভেম্বর নম্বর পরিবর্তন হওয়া খাতাগুলোর উত্তরপত্র চূড়ান্তভাবে যাচাই করা হবে এবং ২৭ নভেম্বর ফল প্রকাশ করা হবে।

এর আগে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নে বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছিল। নতুন করে জিপিএ–৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৭৯ শিক্ষার্থী। আর ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৮৫ জন। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের। আর নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের।

এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন মোট পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছিল ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন।

এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন ছাত্রী।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *