✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন ✍︎
চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যরা ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও মিরপুর; নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, বিসিক শিল্পনগরী, চাষাঢ়া, কাঁচপুর ও শিমরাইল এবং গাজীপুরের চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, আমবাগ, কাশিমপুর, নাওজোর, ভোগড়া বাইপাস, গাছা ও সালনা এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজিবি সদর দপ্তরের মনিটরিং সেল থেকে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও সরাসরি ভিডিও চিত্র সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা।
শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা, জনসাধারণের জানমালের সুরক্ষা এবং স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে বিজিবির মোতায়েন ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছিল।
এরই মধ্যে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ছয় সদস্যের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মজুরি বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
নতুন বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং নিরপেক্ষ সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন।
এই বোর্ড পোশাকশিল্পের সব পদে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশ করবে সরকার।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি কার্যকর হয়। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাকশিল্পে নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে বোর্ড গঠন করা হতো। তবে গত ১০ এপ্রিল সংসদে পাস হওয়া শ্রম আইন সংশোধন বিলে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। সেই হিসাবে চলতি নভেম্বরে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ছিল।
গাজীপুরে ফের বিক্ষোভের চেষ্টা
গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ফের বিক্ষোভ করার চেষ্টা করেছেন পোশাক কারখানার কিছু শ্রমিক। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারগ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করেন।
রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা ৩টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ির জরুন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুরের পর অর্ধশতাধিক শ্রমিক লাঠিসোঁটা নিয়ে কাশিমপুর থেকে কোনাবাড়ির জরুনের দিকে আসেন। এ সময় তারা আশপাশের কারখানাগুলোতে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। ওইসব কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল।
এ সময় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের কারখানার ভেতরে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যরা ওই শ্রমিকদের ধাওয়া দেন। খবর পেয়ে বিজিবিও ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ও লাঠি পেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকাল থেকে শিল্পাঞ্চল স্বাভাবিকভাবে চলছিল। বেলা ৩টার দিকে ওই একই দাবি জানিয়ে মন্ডল গ্রুপের বেশকিছু শ্রমিক জরুন মোড়ে আসে। এ সময় তারা ৬ থেকে ৭টি কারখানায় ঢিল ছুড়ে মারে। পরে পুলিশ ও বিজিবি তাদের লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে সরিয়ে দেয়। এ সময় ৭টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে গাজীপুরে ৭টি কারখানা ছাড়া সব কারখানায় উৎপাদন চলছে।
