■ বিনোদন প্রতিবেদক ■
৯০ দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন ইন্তেকাল করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে নিজের বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।
অভিনেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।
অপু জানান, বিকেল পাঁচটার পর সুমন হঠাৎ অসুস্থতাবোধ করেন। বিষয়টি তিনি আরেক অভিনেতা শাহাদৎ হোসেনকে জানান। এরপর দ্রুত তাকে ঢাকার গ্রিন রোডে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মারা যান শামস সুমন। তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
হাসপাতাল থেকে অভিনেতা সুজাত শিমুল সংবাদমাধ্যমে জানান, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণেই শামস সুমনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, নাট্য নির্মাতা রিপন রহমান ফেসবুক পোস্টে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শামস সুমনের মৃত্যুর বিষয়টি জানান।
অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আমাদের প্রিয় ভাই শামস সুমন আজ সন্ধ্যা ছয়টা ৪৩ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
সপ্তাহখানেক আগে হয়তো একসঙ্গে ইফতার করেছিলাম। মৃত্যুর আগের দুই মাস অনেক গল্প হয়েছে অনেক কিছু জেনেছি তার কাছে। তার জীবন অনেক কাছ থেকে দেখেছি। পবিত্র এই দিনে চলে গেলি ভাই। ইনশাল্লাহ ইনশাল্লাহ তুই বেহেস্তি।
টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ শামস সুমন সর্বশেষ ‘রেডিও ভূমি’তে স্টেশন চিফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মঞ্চ থেকে শুরু করে ছোট পর্দা ও বড় পর্দায় ছিল তার সমান উপস্থিতি। তবে সম্প্রতিকালে টেলিভিশন নাটকে তাকে খুব একটা দেখা যায়নি।
শামস সুমনের জন্ম রাজশাহীতে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন স্বননের সদস্য ছিলেন তিনি।
তার অভিনীত চলচ্চিত্র হলো- ‘মন জানেনা মনের ঠিকানা’ (২০১৬), ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’ (২০১৬), ‘চোখের দেখা’ (২০১৬), ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’ (২০১৪), ‘আয়না কাহিনী’ (২০১৩), ‘বিদ্রোহী পদ্মা’ (২০০৬), ‘জয়যাত্রা’ (২০০৪), ‘নমুনা’ (২০০৮), ‘হ্যালো অমিত’ (২০১২) ও ‘জয়যাত্রা’ (২০০৪)।
২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। শামস সুমন রেডিও ভূমির স্টেশন প্রধান এবং চ্যানেল আই এর অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক ছিলেন। বুধবার সকাল ১০টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে জানাজা এবং সন্ধ্যায় রাজশাহীতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
