রোববার থেকে শুরু হচ্ছে হাম–রুবেলার টিকা কর্মসূচি

✒️ নাগরিক প্রতিবেদক ✒️

জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলার (এমআর) টিকাদান কার্যক্রম শুরু করছে সরকার। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে এ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক।

প্রথম ধাপে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার আওতাধীন ৩০টি উপজেলা। পরে পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে ২০২৬-এর মধ্যে, পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে এই জরুরি টিকাদান কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সব শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনা বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

জানা গেছে, প্রাথমকিভাবে দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় জরুরিভিত্তিতে এ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এই উপজেলাগুলো হচ্ছে— বরগুনা সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, ঢাকার নবাবগঞ্জ, গাজীপুর সদর, যশোর সদর, ঝালকাঠির নলছিটি, মাদারীপুর সদর, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর, নাটোর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, নওগাঁর পোরশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, সদর ও ভোলাহাট, পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া, রাজশাহীর গোদাগাড়ী এবং শরীয়তপুরের জাজিরা।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে এই উপজেলাগুলোর তালিকা পাওয়া গেছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এসব উপজেলার ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী ১২ লাখ ৩ হাজার ২৬৭টি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল রাতে টিকাবিষয়ক কারিগরি কমিটি নাইট্যাগের সভা হওয়ার কথা ছিল। আজও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে উচ্চপর্যায়ের সভা হওয়ার কথা আছে। এই দুই সভায় আরও দু–একটি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ আসতে পারে।

দেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষে হামের সংক্রমণ ১৬ দশমিক ৮। এই সংক্রমণকে অনেক বেশি বলে সংস্থাটি মনে করছে।

সংক্রমণ হার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে দক্ষিণের জেলা বরগুনায়। এখানে এ বছর ২৬ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ২৯৫। এ জেলায় ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু আছে ৩৬ হাজার ৮৮টি। তাদের প্রত্যেককে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। 

উচ্চ সংক্রমণ হারের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে পাবনা সদর উপজেলা। এখানে ৩২ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, সংক্রমণ হার ১৮০। এই জেলায় ছয় মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু আছে ৭২ হাজার ৮২৫টি। তৃতীয় স্থানে চাঁদপুর সদর উপজেলা। এখানে এ পর্যন্ত ২৪ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, সংক্রমণ হার ১৪৪। এ জেলায় ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু আছে ৫৭ হাজার ৩২৮টি।

সংক্রমণ হার বেশি, এমন একটি জেলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরি টিকাদান কর্মসূচির জন্য তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তাঁর উপজেলায় জনবলসংকট রয়েছে। মাঠপর্যায়ে টিকা দেন সাধারণত স্বাস্থ্য সহকারী। কিন্তু এ জেলায় ৩০ শতাংশের বেশি স্বাস্থ্য সহকারীর পদ শূন্য। জরুরি টিকাদান কর্মসূচি সফল করার জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ।

দেশের মোট ৩০টি হটস্পট উপজেলা/পৌরসভা চিহ্নিত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আক্রান্ত এলাকার মধ্যে বরগুনা সদর ও পৌরসভা রয়েছে।

উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জেলার মধ্যে পাবনা (পৌরসভা ও সদর), চাঁদপুর (সদর), কক্সবাজার (মহেশখালী), গাজীপুর সদর, নেত্রকোনা (আটপাড়া), ময়মনসিংহ (সদর ও ত্রিশাল), রাজশাহী (গোদাগাড়ী), বরিশালসহ (মেহেন্দিগঞ্জ) নানা এলাকায় সংক্রমণের হার মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে।

নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে মাদারীপুর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ঝালকাঠি, শরীয়তপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলা।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ২ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে গতকাল ৩ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক ৯৪৭ জন রোগী সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৪২ শিশুর হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।

সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এ বছর ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সন্দেহজনক ৫ হাজার ৭৯২ জনের হামের পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে ৭৭১ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে।

সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ৯৪ জনের সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জনের হামে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ জনের বেশি বলে জানিয়েছে।

সম্পর্কিত লেখা:

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *