জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার আলতাফ হোসেন চৌধুরী

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিয়ে স্পিকার পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনের পর তিনি সংসদে শপথ নেন এবং সদস্যদের সামনে দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণাপত্র প্রদান করেন।

আগামীকাল, বৃহস্পতিবার, সকাল ১১টায় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্পিকারের শপথ পড়াবেন।

অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর ও সংসদ ভবনের আশেপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বুধবার রাত ১২টা থেকে অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং অস্ত্র বা বিস্ফোরক দ্রব্য বহন নিষিদ্ধ করেছে। এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ারের স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

আলতাফ হোসেন চৌধুরী দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাঁর স্পিকারের পদে অভিজ্ঞতা ও নীতিনির্ধারণ ক্ষমতা সংসদের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করবে।

নির্বাচনের সময় সংসদের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে। বহু সদস্য তার রাজনৈতিক দক্ষতা ও নীতি-নিষ্ঠার প্রশংসা করেছেন। এই পদে আসার পর তিনি সংসদের নিয়ম-কানুন মেনে চলা এবং সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জানিয়েছেন, দেশের যুবসমাজের জন্য সংসদে নতুন উদ্যোগ আনা হবে, যাতে আইন-শৃঙ্খলা ও ন্যায্যতা বজায় থাকে। পাশাপাশি, সংসদের বিভিন্ন কমিটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে এবং আইন প্রণয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরীর স্পিকারের পদে দায়িত্ব নেওয়ায় জাতীয় সংসদের ভিতরে আলোচনা ও বিতর্কের মান বৃদ্ধি পাবে। তিনি সংসদ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় এবং নীতিনির্ধারণে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন।

এছাড়া, এই পদে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দলকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সংসদ হলো দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করব।”

জাতীয় সংসদের স্পিকারের পদে অভিজ্ঞ ও নীতিনিষ্ঠ ব্যক্তির দায়িত্ব নেওয়ায় দেশের রাজনৈতিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান ছিলেন। তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে (২০০১-২০০৪) বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

আলতাফ হোসেন চৌধুরী পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাঠালতলী গ্রামের চৌধুরী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আব্দুল আজিজ চৌধুরী এবং মাতা মোমেনা খাতুন চৌধুরী।

তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন পাকিস্তান বিমান বাহিনী-এর একজন যোদ্ধা পাইলট হিসেবে এবং ড্যাসল্ট মিরাজ III এর প্রধান পাইলট হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। ১৯৭১ সালে, তিনি একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন। ১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী-তে যোগ দেন স্কোয়াড্রন লিডার হিসেবে, পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর। ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তিনি পাইলট প্রশিক্ষণ স্কুলের একজন প্রশিক্ষক ছিলেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান ছিলেন।

১৯৯৫ সালে সামরিক চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এ যোগ দেন। বিএনপি সরকারের সময় ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালে চৌধুরী পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সাল থেকে আলতাফ হোসেন চৌধুরী দলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আলতাফ হোসেন চৌধুরীর স্ত্রীর নাম সুরিয়া চৌধুরী। তাঁর একমাত্র কন্যা ড. জুবাইদা এ চৌধুরী। তাঁর একমাত্র ছেলে দুর্ঘটনায় অকালে মারা গেছেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *