নিউইয়র্কে তথ্য উপদেষ্টাকে হেনস্তার চেষ্টা আ.লীগের কর্মীদের

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসে ঢোকার সময় আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে হেনস্তার চেষ্টা করেছেন। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

সেদিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিস এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য উপদেষ্টা। তাঁর কথা শুনেই কনস্যুলেট অফিসের সামনে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা জড়ো হন। দলীয় পতাকা হাতে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। হাতে মাহফুজের ছবি ও সমালোচনামূলক বক্তব্যসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন তাঁরা।

ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, একপর্যায়ে তাঁরা মাহফুজ আলমের উদ্দেশে ডিম ছোড়েন। কনস্যুলেট ভবনের কাচের দরজায় একজনকে লাথি দিতে দেখা যায়। এতে কাচ ফেটে চৌচির হয়ে যায়। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কনস্যুলেট অফিস-সংলগ্ন আলমা করপোরেট প্লাজা নামের একটি ভবনের নিচতলায় মাহফুজ আলম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় বাইরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করছেন।

ভিডিওতে একজনকে আলমা করপোরেট প্লাজা ভবনের বাইরের কাচের দরজায় লাথি মারতে দেখা যায়। এতে দরজায় ফাটল ধরে। পুলিশ সদস্যরা ছুটে এসে আক্রমণকারীদের সরিয়ে দেন। এরপর তাঁরা ভবনের বাইরে অবস্থান নিয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘স্টেপ ডাউন’ বলে চিৎকার করে স্লোগান দিতে থাকেন।

পরে মাহফুজ আলমের বের হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের অবস্থান জেনে কনস্যুলেট অফিস পুলিশ ডাকে। স্থানীয় সময় রাত ১২টার পরে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) পাহারায় উপদেষ্টা মাহফুজ আলম কনস্যুলেট অফিস থেকে বের হয়ে যান।

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ওই অনুষ্ঠানে আসা বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, একটা দেশে রাজতন্ত্র চলছিল, সে দেশের রাজা ছিলেন, রাজার বোন ছিলেন, রাজার ছেলে-মেয়েরা রাজপুত্র ছিলেন। পুরো দেশটা তাদের ছিল, আপনারা ছাত্র জননেতারা রক্ত দিয়ে সেই রাজার পতন ঘটালেন, দেশ থেকে বিতাড়িত করলেন, এখন সে একটা ডিম নিক্ষেপ করবে, সে একটা কটূক্তি করবে, মাহফুজ আলমের পতন চাইবে এটাই তো স্বাভাবিক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য উপদেষ্টা জুলাই আন্দোলনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, জুলাই সনদে প্রবাসীদের অবদান উল্লেখ থাকবে। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের অংশীজন নই। আমরা চাই ভবিষ্যতে যারাই ক্ষমতায় আসুক তারা জুলাই চেতনাকে ধারণ করে দেশ পরিচালনা করবেন। দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক হবে রাষ্ট্র। নিজের রাজনৈতিক চেতনার চেয়েও দেশকে প্রাধান্য দিতে হবে। সবার ঊর্ধ্বে দেশকে এবং দেশের জনগণকে যেন আমরা রাখি।

বক্তব্যের পর উপদেষ্টা মাহফুজ আলম উন্মুক্ত প্রশ্ন আহ্বান করেন। বাংলাদেশে ভারতীয় টেলিভিশন অথবা গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বানের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আমি কোনো কিছু বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে নই। আমি সব সময় বিকল্প ভালোর কথা বলে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের কোনো কিছুও বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে নই।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি প্রশ্ন-উত্তর পর্বেরও সমন্বয় করেন। রাত দশটায় প্রশ্নোত্তর পর্ব নিয়ে কিছুটা হট্টগোল হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনুষ্ঠান চলাকালে মাহফুজ আলম কখন বের হবেন সে জন্য একদল ব্যক্তি বাইরে অপেক্ষা করেন। আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের অবস্থান জেনে কনস্যুলেট অফিস পুলিশ ডাকে। স্থানীয় সময় রাত ১২টার পরে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) পাহারায় উপদেষ্টা মাহফুজ আলম কনস্যুলেট অফিস থেকে বের হয়ে যান।

এদিকে সোমবার (২৫ আগস্ট) রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী ফেসবুক লিখেছেন, নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কতিপয় দুষ্কৃতিকারীর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের সহকর্মীরা বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। বিদেশে অবস্থিত সকল মিশন ও দূতাবাস কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাগতিক দেশের দায়িত্ব। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম বৃহৎ অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে, বাংলাদেশের পতিত স্বৈরশাসকের সমর্থকদের এমন ন্যাক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে আমার সহকর্মীদের প্রয়োজনীয় যেকোনো সহযোগিতা প্রদানে আমি প্রস্তুত।

রাষ্ট্রীয় সফরে মাহফুজ আলম আগামী ২৭ তারিখ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। 

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *