■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দ্রুত অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল গঠন করেছে দেশটি। এতে নতুন করে স্থান পেলেন দেশটির গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য ও আলেম আয়াতুল্লাহ আলীরেজা আরাফি।
তাকে দেশটির নেতৃত্ব পরিষদের আইনবিদ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। নতুন নেতা নির্বাচন না করা পর্যন্ত আরাফি, ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতার ভূমিকা পালন করবেন।
ইরানের নেতৃত্ব পরিষদ মূলত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। আইনত অন্য একজন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করার দায়িত্ব পালন করবে এ পরিষদ।
ইরানের গণমাধ্যমগুলো জানায়, নেতৃত্ব পরিষদে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত আলীরেজা আরাফি (৬৭) একজন ধর্মীয় নেতা। এর আগে তিনি গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। তিনি ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেইয়ের সঙ্গে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনা করবেন।
তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হলেও আলিরেজা আরাফি একজন প্রতিষ্ঠিত আলেম। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তিনি সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের অ্যালেক্স ভাতাঙ্কার মতে, আরাফিকে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সংবেদনশীল পদে নিয়োগ দেওয়া থেকে বোঝা যায়, তাঁর প্রশাসনিক সক্ষমতার ওপর খামেনির গভীর আস্থা রয়েছে।
তবে আরাফি রাজনৈতিকভাবে খুব শক্তিশালী বা প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত নন এবং নিরাপত্তাকাঠামোর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও নেই।
ভাতাঙ্কা আরও উল্লেখ করেছেন, আরাফি আরবি ও ইংরেজিতে সাবলীল, প্রযুক্তিবান্ধব। তিনি ২৪টি বই ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।
আইআরজিসি এবং নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, তা এখনও জানা যায়নি।
ইরান তাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনার জন্য যেমন নতুন নেতৃত্ব খুঁজছে। ঠিক তেমনিভাবে ইসরায়েল ও মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে।
প্রায় চার দশক ধরে কঠোর হাতে দেশ শাসন করা এই প্রবীণ নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করে যাননি। ফলে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব পড়বে ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ আলেমের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচিত সংস্থা—‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর ওপর।
১৯৭৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ধর্মীয় পরিষদ মাত্র একবারই এ দায়িত্ব পালন করেছে। তিন দশকের বেশি আগে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তড়িঘড়ি করে আলী খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ সদস্যের নির্বাচিত আলেমদের পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে।
বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা চলছে।
সংবিধানে নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ আলেমদের কাউন্সিলকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করতে হবে। নতুন নেতাকে অবশ্যই পুরুষ হতে হবে, ধর্মীয় আলেম হতে হবে এবং তাঁর মধ্যে রাজনৈতিক দক্ষতা, নৈতিক কর্তৃত্ব ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি অটল আনুগত্য থাকতে হবে।
পরিষদ চাইলে বিধিবিধানের ব্যাখ্যা এমনভাবে দিতে পারে, যাতে বৃহত্তর সামাজিক স্বাধীনতা ও বিশ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ততার পক্ষে থাকা সংস্কারপন্থী আলেমরা এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েন।
