জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা বৃহস্পতিবার

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত রোডম্যাপ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

ইসি সচিব বলেন, আমরা যে কর্মপরিকল্পনাটা করেছি, সেটার জন্য কালকে (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

রোডম্যাপ কবে ঘোষণা করা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, আমাদের এটার জন্য অনেক কিছু অপেক্ষা করছে। এটা আমরা বুঝি। আপনারা কাল (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

এর আগে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসউদ বলেন, কমিশন রোডম্যাপ অনুমোদন দিয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন-এর সভাপতিত্বে চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব আজ এক বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) অনুমোদন করেছে কমিশন

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, কর্মপরিকল্পনার সবকিছু চূড়ান্ত করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, এখন শুধু টাইপিং চলছে।

এর আগে বুধবার সকাল ১০টায় নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও সিলেট অঞ্চলের দাবি-আপত্তি নিয়ে শুনানি শুরু হয়।

এ বছরের ৩০ জুলাই ইসি ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে খসড়া প্রকাশ করে ইসি। গাজীপুরে ভোটার সমতা রক্ষা করতে একটি আসন বৃদ্ধি করে মোট ৬টি করা হয়, আর বাগেরহাটের আসন ৪ থেকে কমিয়ে ৩টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে ১০ আগস্টের মধ্যে ৮৩টি সংসদীয় এলাকার সীমানা নিয়ে ১,৭৬০টি দাবি-আপত্তি ইসিতে জমা পড়ে।

২৪ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া শুনানি আজ বুধবার শেষ হচ্ছে। শুনানি শেষে কমিশন সব দাবি-আপত্তি বিবেচনা করে চূড়ান্ত ৩০০ আসনের সংসদীয় এলাকার সীমানা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

গত চার দিনে ৩৩ জেলার ৮৪টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে শুনানি হয়। এতে ১১৮৫টি আপত্তি ও ৭০৮ সুপারিশ জমা পড়ে। সর্বমোট আপত্তি ও সুপারিশের সংখ্যা ১ হাজার ৮৯৩।

২৪ আগস্ট ৬টি জেলার ১৮টি আসন, ২৫ আগস্ট ৯টি জেলার ২০টি আসন, ২৬ আগস্ট ৬টি জেলার ২৮টি আসন, আজ ২৭ আগস্ট ১২টি জেলার ১৮টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে শুনানি হয়।

উল্লেখ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দল নিবন্ধন, সীমানা নির্ধারণ, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংস্কার, বিধিমালা ও নীতিমালা জারি, প্রবাসীদের জন্য আইটি সাপোর্টেড নিবন্ধন ও পোষ্টাল ব্যালট পদ্ধতি ও নির্বাচনী সরঞ্জাম কেনাকাটা বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে রোডম্যাপে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *