𓂃✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন 𓂃✍︎
রাজধানীর ধানমন্ডিতে চাচাতো ভাইয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে পাঠানো হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রায় ২১ মাস পর গ্রেফতার হন।
সাবেক এই স্পিকারকে অভ্যুত্থানের সময়কার একটি হত্যাচেষ্টার মামলায় হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন ছিল পুলিশের। হেফাজতে নেওয়া এবং জামিনের আবেদনও নাকচ করে দেন বিচারক।
ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০ মিনিটের শুনানি শেষে শিরীন শারমিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এ আদেশের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান তুললে তাঁদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের ধাক্কাধাক্কি হয়।
৬০ বছর বয়সী শিরীন শারমিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০১৩ সালে বাংলাদেশের সংসদে প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন। এরপর ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের আগপর্যন্ত টানা এ পদে ছিলেন তিনি।
সরকার পতন ও সংসদ ভেঙে দেওয়ার ২৭ দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর স্পিকারের পদ থেকে তাঁর পদত্যাগের খবর আসে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরোটা সময়ে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কিছু আর জানা যায়নি।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানায় করা একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। দুপুরে তাঁকে একটি মাইক্রোবাসে করে নেওয়া হয় পুরান ঢাকার আদালতে। নীল রঙের শাড়ি পরা শিরীন শারমিনকে ঘিরে ছিলেন বেশ কয়েকজন নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্য।
বেলা ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে শিরীন শারমিনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রিমান্ড শুনানির জন্য তাঁকে আদালতে তোলা হয় বেলা ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে। আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ভিড়ে এ সময় আদালতকক্ষ ছিল পরিপূর্ণ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের করা দুই দিন রিমান্ডের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী।
ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এই আসামি ‘ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ ছিলেন। তিনি বিনা ভোটে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ‘ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে আন্দোলনে গুলি চালানোরও নির্দেশ’ দেন। এ মামলার ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে রিমান্ড আবেদন বাতিল করে শিরীন শারমিনকে জামিন দিতে আবেদন করেন ব্যারিস্টার মামুন, শামীম আল সাইফুল সোহাগসহ কয়েকজন আইনজীবী।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ‘এ মামলায় ১৩০ জনের নামসহ অজ্ঞানতানামা অনেকে আসামি আছেন। এজাহারে শিরীন শারমিনের নাম ছাড়া আর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এজাহারে ৩ নম্বরে তাঁর নাম থাকা ছাড়া আর একটা শব্দও যদি কিছু থাকে, তবে জামিন চাইব না।’
ওই আইনজীবীরা বলেন, মামলায় ঘটনার তারিখ ১৮ জুলাই, ২০২৪। কিন্তু মামলাটি করা হয় ২০২৫ সালের ২৫ মে, অর্থাৎ ১০ মাস ৭ দিন পর মামলাটি করা হয়েছে।
যিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তাঁর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেই আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, শিরীন শারমিন গুলি করেননি।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আরও বলেন, ঘটনার সময় শিরীন শারমিন জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন। তিনি সাংবিধানিকভাবে একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অন্যায় করার অভিযোগ নেই। পরে তিনি নিজেই পদত্যাগ করেছেন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সরাসরি পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।
পেশায় আইনজীবী শিরীন শারমিনের ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে সদস্যপদ থাকার কথা তুলে ধরে এবং নারী হিসেবেও তাঁকে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন আসামিপক্ষের কৌঁসুলিরা।
শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত রিমান্ড ও জামিন আবেদন—দুটোই নামঞ্জুর করে শিরীন শারমিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এরপর ৩টা ২০ মিনিটে শিরীন শারমিনকে পুলিশ আদালতের হাজতখানায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
আদালতকক্ষ থেকে পুলিশবেষ্টনীর মধ্যে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় তিনি পড়ে গিয়েছিলেন। হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারের পর আজ মঙ্গলবার তাঁকে ঢাকার আদালতে নেওয়া হয়েছিল। বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেনছবি: ভিডিও থেকে
শিরীন শারমিনকে হাজতখানায় যখন নেওয়া হচ্ছিল, তখন আওয়ামী লীগ সমর্থক একদল আইনজীবী জয়বাংলা স্লোগান তুললে উত্তেজনা দেখা দেয়। তাঁদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের ধাক্কাধাক্কি হয়।
এ সময় আদালত থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় ভিড়ের মধ্যে নিচতলার সিঁড়িতে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান শিরীন শারমিন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে টেনে তোলেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।
তবে ঢাকা সিএমএম আদালতের হাজতখানায় দায়িত্বরত উপপরিদর্শক মো. মোরশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘উনি পড়েননি। শেষ সিঁড়িতে এসে তাঁর পা একটু বেঁকে যায়। আমাদের নারী পুলিশ সদস্যরা তাঁকে চারদিক থেকে ধরে রাখেন। তিনি পড়েননি।’
