■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
গত তিন বছরে দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে। ২০২২ সালে এ হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীর আগারগাঁয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে ‘ইকনোমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেবেল ইন মিড ২০২৫’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি জানান, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিস্থিতিতে গত মে মাসে ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের ৩৩ হাজার ২০৭ জন ব্যক্তির মতামতের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পর এই সমীক্ষা পরিবারগুলোর আয়, কর্মসংস্থান, ব্যয়, ঋণ-সঞ্চয়, ডিজিটাল অংশগ্রহণ এবং জীবনযাত্রার টানাপোড়েনকে নতুনভাবে চিত্রিত করেছে। সমীক্ষার দারিদ্র্য নিরূপণের পদ্ধতি উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নামিরা শামীম এবং প্রশ্নত্তোর-পর্ব পরিচালনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ এম. হাসেমি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্ন ও মধ্যম শ্রেণির মানুষের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। তবে উচ্চবিত্তের আয়ের চেয়ে ব্যয় কম। এছাড়া বেড়েছে বৈষম্য। এক্ষেত্রে জাতীয় ব্যয় গিনি সহগ ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে দশমিক ৪৩৬, যেটি ২০২২ সালে ছিল দশমিক ৩৩৪। এই বৈষম্য গ্রাম ও শহর উভয় ক্ষেত্রেই বেড়েছে। আরও বলা হয়েছে, গত সরকার আমলে বা ২০২৪ সালের আগস্টের আগে যে কোনো সেবা পেতে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ পরিবারকে ঘুস দিতে হতো। এখন সেটি কমে হয়েছে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে সার্বিকভাব ঘুস দেওয়া কিছুটা কমলেও বর্তমানে কোনো কাজ করতে গিয়ে ঝামেলা এড়াতে বেশি ঘুস দিচ্ছে মানুষ। ২০২৪ সালের আগস্টের আগে যেটি ছিল ২১ দশমিক ৫১ শতাংশ, সেটি এখন বেড়ে হয়েছে ৩০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ঘুস দেওয়া হয়েছে সরকারি অফিসে। এর পরে পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের বেশি ঘুস দিতে হয়েছে।
ফলাফলে উঠে আসে, অতি দারিদ্র্যের হার তিন বছর আগের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ হয়েছে।
গত মে মাসে ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের ৩৩ হাজার ২০৭ জন ব্যক্তির মতামতের ভিত্তিতে এ গবেষণাটি করা হয়।
গত তিন বছরের ব্যবধানে শহরের একটি পরিবারের মাসিক আয় কমেছে কিন্তু খরচ বেড়ে গেছে বলে পিপিআরসির গবেষণায় উঠে এসেছে। শহরের একটি পরিবারের গড়ে মাসিক আয় ৪০ হাজার ৫৭৮ টাকা। খরচ হয় ৪৪ হাজার ৯৬১ টাকা। অথচ ২০২২ সালে শহরের একটি পরিবারের মাসিক গড় আয় ছিল ৪৫ হাজার ৫৭৮ টাকা।
অন্যদিকে গ্রামের পরিবারের গড় আয় কিছুটা বেড়েছে। গ্রামের একটি পরিবারের গড় আয় ২৯ হাজার ২০৫ টাকা এবং খরচ ২৭ হাজার ১৬২ টাকা। ২০২২ সালে গ্রামের পরিবারের গড় আয় ছিল ২৬ হাজার ১৬৩ টাকা।
বর্তমান বাস্তবতায় পাঁচটি নতুন ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে মনে করে পিপিআরসি—এক. দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) রোগের বোঝা বাড়ছে। পিপিআরসির গবেষণায় এসেছে, দেশের ৫১ শতাংশ পরিবারে অন্তত একজন বা এর বেশি সংখ্যায় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত সদস্য রয়েছেন।
এ বিষয়ে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণে পরিবারগুলোকে চিকিৎসার পেছনে বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে, যা আবার তাদের ঋণের বোঝা বাড়াচ্ছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী রোগ মোকাবিলার জন্য নতুন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেওয়ার সময় হয়েছে।
পাঁচটি ঝুঁকির দ্বিতীয়টি হলো দেশের প্রায় প্রতি চারটি দরিদ্র পরিবারের মধ্যে একটি নারীপ্রধান (স্বামীর মৃত্যু অথবা বিচ্ছেদ বড় কারণ)। এ ধরনের পরিবারগুলো সমাজের সবচেয়ে নিচের স্তরে পড়ে আছে। তাই এদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন।
তিন. সমাজের একটি অংশ অনেক বেশি আয় করছে, অন্যদিকে বড় অংশ খরচ চালাতেই হিমশিম খাচ্ছে। এর ফলে পরিবারগুলোর ওপর ঋণের চাপ বাড়ছে, বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারে চাপ বেশি। এই ঋণ মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার ব্যয়, চিকিৎসা কিংবা ঘর মেরামতের মতো কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ঋণ করছেন দৈনন্দিন খাবারের খরচ মেটানোর জন্য।
চার. ক্রমবর্ধমান খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা আরেকটি বড় ঝুঁকি। পিপিআরসির গবেষণায় দেখা যায়, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র অনেক পরিবারের সদস্যরা সপ্তাহে একাধিক বেলা কিংবা মাসে অন্তত এক দিন একেবারেই না খেয়ে থাকছেন।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা এখনো ব্যাপক আকারে হয়নি, তবে তা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এটি উদ্বেগজনক।
পাঁচ. স্যানিটেশন সংকট উত্তরণ করে এসডিজি (জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য) অর্জনের জন্য মাত্র পাঁচ বছর আছে, কিন্তু এখনো প্রায় ৩৬ শতাংশ মানুষ নন-স্যানিটারি টয়লেট (শৌচাগার) ব্যবহার করছেন।
প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, গড়ে একটি পরিবারের মাসিক আয় ৩২ হাজার ৬৮৫ টাকা এবং মাসিক ব্যয় ৩২ হাজার ৬১৫ টাকা। কিন্তু এর মধ্যে অনেক ভাগ রয়েছে। যেমন: সবচেয়ে নিচের দিকের ১০ শতাংশ মানুষের মাসিক আয় ৮ হাজার ৪৭৭ টাকা আর ব্যয় ১২ হাজার ২৯৪ টাকা। এছাড়া মধ্যবিত্ত ৪০ শতাংশ মানুষের আয় ২৮ হাজার ৮১৮ টাকা আর ব্যয় হয় ২৯ হাজার ৭২৭ টাকা। উচ্চস্তরে থাকা ১০ শতাংশ মানুষের আয় ১ লাখ ৯ হাজার ৩৯০ টাকা হলেও ব্যয় হয় ১ লাখ ১ হাজার ১৬৩ টাকা। এক্ষেত্রে তিন বছরের ব্যবধানে শহরের পরিবারের মাসিক আয় কমেছে; কিন্তু খরচ বেড়ে গেছে। শহরের একটি পরিবারের গড়ে মাসিক আয় ৪০ হাজার ৫৭৮ টাকা। খরচ হয় ৪৪ হাজার ৯৬১ টাকা। ২০২২ সালে শহরের একটি পরিবারের মাসিক গড় আয় ছিল ৪৫ হাজার ৫৭৮ টাকা। অন্যদিকে গ্রামের পরিবারের গড় আয় কিছুটা বেড়েছে। গ্রামের একটি পরিবারের গড় আয় ২৯ হাজার ২০৫ টাকা, খরচ ২৭ হাজার ১৬২ টাকা। ২০২২ সালে গ্রামের পরিবারের গড় আয় ছিল ২৬ হাজার ১৬৩ টাকা।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ মানুষের মধ্যে ১২ দশমিক ২ শতাংশ সপ্তাহে অন্তত একবেলা না খেয়ে থাকে। এছাড়া ৯ শতাংশ মানুষ মাসে অন্তত একদিন না খেয়ে থেকেছে। নিম্ন-আয়ের মানুষের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে স্মার্টফোনের ব্যবহার বেড়েছে। তবে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ স্মার্ট ফোন ব্যবহার হয় গেম বা বিনোদন কাজে। দেশে পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ পায় যারা গরিব নয়। এছাড়া যারা গরিব নয় তবে যে কোনো সময় গরিব হতে পারে-এমন ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ মানুষ সরকারি বিভিন্ন ভাতা পান। এই দুটো মিলে ধরলে দেখা যায়, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে ৪৪ দশমিক ৩০ শতাংশই সঠিক মানুষ পাচ্ছে না। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে গড়ে ২৭ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। পরিবারগুলোয় সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মানুষের প্রত্যাশা হলো অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচন। এছাড়া রাজনৈতিক প্রত্যাশা হলো-দুর্নীতি দমন, সুশাসন এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।
অনুষ্ঠানে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংগত কারণে ক্ষুদ্র অর্থনীতির তুলনায় সামষ্টিক অর্থনীতিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থনীতির পরিকল্পনায় জনমুখী দৃষ্টি (পিপলস লেন্স) থাকা খুবই জরুরি হয়ে গেছে। শুধু জিডিপির ওপর আলোচনা সীমাবদ্ধ না রেখে আমাদের সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা ও নাগরিকের কল্যাণ নিয়ে আলোচনা বাড়াতে হবে। বর্তমান বাস্তবতায় পাঁচটি নতুন ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র আমাদের বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। এগুলো হলো-আমাদের মাঝে দীর্ঘস্থায়ী রোগের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে। ক্রনিক রোগ মোকাবিলার জন্য একটি নতুন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রয়োজন। এছাড়া নারীপ্রধান পরিবারগুলো সমাজের সবচেয়ে নিচের স্তরে পড়ে আছে, তাই তাদের বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন। পরিবারগুলোর ঋণের বোঝা বাড়ছে, যা একটি বড় ধরনের সমস্যা হয়ে উঠছে। ক্রমবর্ধমান খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা-এটি এখনো ব্যাপক আকারে হয়নি, তবে ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং যা উদ্বেগজনক। স্যানিটেশন সংকট উত্তরণ করে এসডিজি অর্জনের জন্য আমাদের হাতে মাত্র পাঁচ বছর আছে; কিন্তু এখনো প্রায় ৩৬ শতাংশ মানুষ নন-স্যানিটারি টয়লেট ব্যবহার করছে। ফলে নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্মসংস্থান নিয়ে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের মাঝে এখন কর্মসংস্থানের জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বেকারত্বের দুর্যোগের বাস্তবতার মধ্যে আমরা অবস্থান করছি। কর্মসংস্থান নিয়ে বড় ধরনের ভাবনা এবং জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন। এ বিষয়ে এখনই আমাদের আলোচনা এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণের চাপ নিচের ৪০ শতাংশ পরিবারের ঋণ তাদের সঞ্চয়ের অন্তত দ্বিগুণ, এদিকে কর্মরত হিসাবে গণনা করা লোকজনের মধ্যে ৩৮ শতাংশ আসলে আংশিক বেকার (সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার কম কাজ করছেন)। নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ২৬ শতাংশে স্থবির। প্রায় অর্ধেক কর্মী স্বনিয়োজিত, যা যেমন টিকে থাকার কৌশল, তেমনই অনিশ্চয়তার প্রতীক। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, প্রবাসী আয় ১৫ শতাংশ পরিবার মাসে গড়ে প্রায় ২৯ হাজার টাকা পাচ্ছে, যদিও তা মূলত উচ্চ আয়ের পরিবারে কেন্দ্রীভূত। আরও বলা হয়েছে, দেশীয় ভোক্তা বাজার অনেক বড়, যার আনুমানিক আকার ২১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সমীক্ষায় দেখা যায়, সবচেয়ে ধনী পরিবারগুলোর ৬২ শতাংশ ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হলেও সবচেয়ে দরিদ্র এক-তৃতীয়াংশ পরিবার সরাসরি নৈরাশ্য প্রকাশ করেছে। তবুও সামগ্রিকভাবে অর্ধেকেরও বেশি ৫৪ শতাংশ মানুষ সতর্ক আশাবাদী। পরিবারগুলো মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ও শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে ধনী-গরিব নির্বিশেষে তাদের আকাঙ্ক্ষা হলো একই শিক্ষা, নিরাপদ কর্মসংস্থান, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ।
পিপিআরসি মনে করে, জরুরি ভিত্তিতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপের নেওয়া দরকার। যেমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য ইমার্জেন্সি ফ্যামিলি অ্যাসিস্ট্যান্স প্যাকেজ ঘোষণা, শিশু ও যুবদের জন্য এডুকেশন কন্টিনিউটি গ্রান্টস চালু; চাল, ডাল, তেল ও গ্যাসের মতো নিত্যপণ্যের উন্মুক্ত বাজার বিক্রয় সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা পরিবারগুলোর জন্য আলাদা নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করা। দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ হলো-হাউজহোল্ড রেজিলিয়েন্স টাস্কফোর্স গঠন, হাউজহোল্ড ইকোনমিক মনিটরিং সেল প্রতিষ্ঠা, অঞ্চলভিত্তিক সম্পদ বণ্টনে অধিক সমতা আনা, অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় মানুষের জীবন, কণ্ঠ ও ন্যায্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।