■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলার বিচার দাবিতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে বেশ কয়েকটি সংগঠন।
ফিলিস্তিনে ইসরাইলি হামলার বিচার দাবি করেছে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা। বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে জুমার নামাজ শেষে এ বিক্ষোভ মিছিল করে তারা।
নেতারা জুমার নামাজ শেষে সালাম ফিরিয়ে নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার বলে স্লোগান দেন। পরে তারা একটি মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়ের দিকে চলে যান।
এদিকে নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তরপাশে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশ শুরু করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর শাখা।
অপরদিকে ইসলামী দলগুলোর ডাকা বিক্ষোভ মিছিলকে ঘিরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।
পল্টন মোড়ে রাখা হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের জলকামান, এপিসি কার ও দুইটি প্রিজনভ্যান। এছাড়া বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়েছেন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আর নাইটিঙ্গেল মোড়ে বিজিবি সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
এদিকে মসজিদে প্রবেশের সময় মুসল্লিদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের। এছাড়া সাদা পোশাকে ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য জ্যাকেট পরে অবস্থান নিয়েছেন।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জুমার নামাজের পর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিস বিক্ষোভ মিছিল করবে। এছাড়া ছাত্রশিবির ও জামায়াতের সদস্যরা মসজিদ এলাকায় উপস্থিত আছেন।
ফিলিস্তিনে হামলার বিচার দাবিতে চট্টগ্রামে হেফাজতের বিক্ষোভ মিছিল
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর ও অমানবিক হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর সংগঠনটির হাটহাজারী উপজেলা শাখার উদ্যোগে পৌরসভার ডাক বাংলো চত্বরে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
হাটহাজারী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমীর সভাপতিত্বে উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমরান সিকদার, যুগ্ম সম্পাদক মোরশেদ আলম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আসাদুল্লাহ আসাদের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হেফাজতের সহকারী মহাসচিব মাওলানা জাফর আহমদ।
মাওলানা জাফর আহমদ বলেন, ইহুদিবাদী ইসরায়েলিরা পবিত্র এই মাসের ১৮ রমজান সাহরির সময় নিরীহ ফিলিস্তিনি মুসলমানদের ওপর বোমা হামলার মাধ্যমে ঘুমন্ত শত শত মুসলমানদের হত্যা করে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি। এখন মুসলমানদের ঐক্যের সময় এসেছে। বিশ্বের সকল মুসলমান একত্রিত হয়ে এই ইজরায়েলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে হবে। এর জন্য সকল মুসলমানদের সকল প্রকার লোভ-লালসা ও ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের ছায়াতলে একত্রিত হতে হবে।
তিনি বলেন, ইসরায়েল যেভাবে ফিলিস্তিনি মুসলমানদের জন্য বিষফোঁড়া, তদ্রুপ জৈনবাদী ভারত বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডের জন্য বিষফোঁড়া। তারা বাংলাদেশকে তিলে তিলে শেষ করে দেওয়ার জন্য পাঁয়তারা করছে। এই ভারতের বিরুদ্ধে সকল বাঙালি মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ভারতের সকল পণ্য বর্জন করতে হবে। আজকের সমাবেশ থেকে বাংলাদেশের মুসলমানদেরকে ইসরায়েলি ও ভারতীয় পণ্য বর্জন করার জন্য জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি।
সভাপতির বক্তব্যে মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমী বলেন, ইহুদিবাদী ইসরায়েল মুসলমানদের ওপর হামলা বন্ধ না করলে আমাদের শরীরের শেষ রক্ত কণা পর্যন্ত আমরা ওদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে যাব। বাংলাদেশ সরকারকে মুসলিম বিশ্বের সাথে যোগাযোগ করে ইজরায়েলিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. আহসানুল্লাহ, কার্যনির্বাহী সদস্য হাটহাজারী পৌরসভার সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম মেহেদী, মাওলানা মুফতি বশিরুল করিম, আবু তাহের রাজিব, রাশেদুল ইসলাম, মাওলানা ইকবাল গড়দুয়ারী, হাফেজ মহিউদ্দিন, ছাত্রনেতা আবরার কাউসার, মাওলানা জিয়াউদ্দিন জিয়া প্রমুখ।
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের বর্বর হামলার প্রতিবাদে রাঙ্গামাটিতে বিক্ষোভ
ফিলিস্তিনে নিরীহ মুসলিম জনতার ওপর দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাঙ্গামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর বনরুপা জামে মসজিদ মুসল্লী পরিষদের আয়োজনে বনরুপা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনরুপা জামে মসজিদের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য মিনহাজ মুর্শীদ, ইসলামী আন্দোলন রাঙ্গামাটি জেলার সভাপতি হোসাইন মালিক, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রাঙ্গামাটি জেলার সভাপতি শহিদুল ইসলাম শাফী প্রমুখ।
এসময় সমাবেশে বক্তারা বলেন, গাজায় মুসলমানদের রক্তের বন্যা বইছে। একদিকে মসজিদ ধ্বংস করা হচ্ছে, অন্যদিকে ভারতের মুসলমানরা জুলুম-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে এত বড় ষড়যন্ত্র চললেও বিশ্ব শক্তিগুলো নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে যা আমাদের চরমভাবে ব্যথিত ও বিক্ষুব্ধ করেছে। ইসরায়েলি হত্যাকাণ্ড বন্ধে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানান বক্তারা।