𓂃✍︎ নাগরিক প্রতিবেদক 𓂃✍︎
হামে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন মারা গেছে। রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হালনাগাদ করা এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের। তাদের মধ্যে ঢাকায় সর্বোচ্চ ১৫ জন, বরিশালে পাঁচজন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে তিনজন করে ছয়জন এবং ময়মনসিংহে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের লক্ষণ নিয়ে সারা দেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫১ জনে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬৪ জন ও রাজশাহী বিভাগে ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৫০ জনের। এ সময়ে হামের লক্ষণ নিয়ে ১ হাজার ২৬৮ জন রোগী হাসপাতালে এসেছে, যাদের মধ্যে ৭৬২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে সবচেয়ে বেশি ৩৫৭ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকার হাসপাতালগুলোয়। আর সবচেয়ে কম ১১ জন ভর্তি হয়েছে রংপুর বিভাগে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২২৫ জনে। একই সময়ে ২ হাজার ৬৩৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা সাড়ে ১৫ হাজার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ২৯ দিনে হামে মোট ২৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৫১টি শিশুর।
এ ছাড়া গত ২৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা ১৫ হাজার ৬৫৩ জনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ২২৫ জন। তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ৬৩৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন ৭ হাজার ৬৫৬ জন।
টিকা নিয়েও ১১ শতাংশ শিশু হামে আক্রান্ত
দেশে ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সরকারকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব কমাতে সরকার দেশব্যাপী ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুর জন্য বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে, যার আওতায় প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত ন্যাশনাল ইপিআই সার্ভিল্যান্সের এক সাম্প্রতিক জরিপে এই ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।
হাম সন্দেহে ২ হাজার ৩১০ জন শিশুর ওপর চালানো জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এদের মধ্যে ৫৪.৭ শতাংশ শিশু কোনো টিকাই গ্রহণ করেনি। ২২ শতাংশ শিশু প্রথম ডোজ (এমআর-১) নেওয়ার পরও হামে আক্রান্ত হয়েছে। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২৩.২ শতাংশ শিশুকে হামের পূর্ণ দুই ডোজ (এমআর-১ ও ২) দেওয়ার পরও তাদের শরীরে হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
নিয়ম অনুযায়ী দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, হামে পূর্ণ টিকা নেওয়া সত্ত্বেও ১১.২ শতাংশ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া এক ডোজ টিকা নেওয়ার পরও ১৭ শতাংশ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে টিকা নেওয়া ও না নেওয়া উভয় শিশুই রয়েছে
জরিপে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ৭৫১ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৭১.৮ শতাংশ শিশু টিকা নেয়নি। এর মধ্যে ৪৯ শতাংশ শিশুর টিকা নেওয়ার বয়সই হয়নি। ১৭ শতাংশ শিশু এক ডোজ টিকা নেওয়ার পরও আক্রান্ত হয়েছে। আর ১১.২ শতাংশ শিশু হামের পূর্ণ টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করার পরও হামে আক্রান্ত হয়েছে।
এ বছরের প্রথম দুই মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে ৫৫০ জন আক্রান্তের মধ্যে ১৩০ জন শিশু প্রথম ডোজ এবং ১৩৮ জন শিশু দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন ১১শ আক্রান্তের মধ্যে ৯৫ জন প্রথম ডোজ এবং ৯৯ জন দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছিল। বাকিদের অধিকাংশেরই টিকা নেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই হাম হয়েছে।
বিগত চার বছরের তথ্যমতে, হামের টিকা নেওয়ার বয়সের (৯ মাস) আগেই এবার সবচেয়ে বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার ২০২৩ সালে ছিল ৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ১৫ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ১১ শতাংশ। কিন্তু এ বছর টিকা নেওয়ার আগেই ৩৩ শতাংশ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।
হামের টিকা নেওয়ার নির্ধারিত বয়স ৯ মাস হওয়ার আগেই শিশুদের আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। জরিপে দেখা গেছে, চলতি বছর হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৩৩ শতাংশেরই টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি, অর্থাৎ এদের প্রত্যেকের বয়স ৯ মাসের কম। বিগত বছরের তুলনায় ৯ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের আক্রান্তের হারও এ বছর বেশি
৯ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের আক্রান্তের হারও বিগত বছরের তুলনায় বেশি। ২০২৩ সালে ৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ১৫ শতাংশ, ২০২৫ সালে ১১ শতাংশ এবং এ বছর বিগত তিন মাসে ১৮ শতাংশ শিশু আক্রান্ত হয়েছে, যাদের বয়স ৯ মাস থেকে এক বছর।
