■ নাগরিক প্রতিবেদন ■
২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে লটারিতে স্কুলে ভর্তি পদ্ধতি থাকবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী।
এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বছরের প্রথমে অ্যাডমিশন যেটা হয় সেখানে আমরা লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। আগাম জানিয়ে দিলাম, যেন সবাই সুযোগ পায়… আমরা লটারি সিস্টেম উইথড্র করলাম, দ্যাটস ইট।’
এক মাস ধরে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি উঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। সবগুলো শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রেই পরীক্ষা আয়োজনে করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ওদেরকে আমরা ক্লাস ওয়ানে নিউরোসার্জন বানানোর চেষ্টা করছি না। এটা নিশ্চিত থাকেন।’
লটারি পদ্ধতি উঠিয়ে দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হলে ‘কোচিং ও নোট গাইডের’ বাজার বাড়বে না বলে মনে করছেন শিক্ষামন্ত্রী।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, বৃত্তি পরীক্ষাও আগের নিয়মে আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, এ প্রক্রিয়া শুরু হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি নিয়ে ফের বাণিজ্য ফিরে আসার আশংকা রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা পদ্ধতিতেও অনিয়ম ঠেকানোর সুযোগ কম। এছাড়া সারাদেশের ২০ হাজার স্কুল-কলেজে ভর্তি পরীক্ষা নজরদারি করার মতো জনবলও সরকারের নেই। এছাড়া পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশে প্রথম শ্রেণীতে স্কুলে ভর্তি হতে কোনো পরীক্ষা শিশুদের দিতে হয় না।
ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে কোচিং বাণিজ্য বা তদবির বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কার বিষয় উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখানে কোচিং করার কোনো সুযোগ থাকবে না। পরীক্ষাটি হবে খুবই সাধারণ। অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমার মতে, লটারির মাধ্যমে ভর্তি কোনো শিক্ষাব্যবস্থায় থাকা উচিত নয়।
একসময় দেশের স্কুলগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা ছিল প্রচলিত নিয়ম। তখন শিশুদের অল্প বয়সেই কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হতো। কোচিং ও প্রাইভেটের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায় এবং ভর্তিকে ঘিরে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও ছিল।
এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু হয়।
পরবর্তীতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয় এবং এরপর থেকে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছিল।
