■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকান্ডে জড়িত দুইজনকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে রাজ্য পুলিশের মামলায় আদালতে তোলার পর তাদের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বনগাঁ থেকে গ্রেফতার করা হয়।
হাদির হত্যার পর তারা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওঠে আসে। তাদের সঙ্গে আরও কেউ অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছেন পুলিশ।
বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো প্রসঙ্গে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এই দুইজনকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া রাজ্য পুলিশের এখতিয়ারের বাইরে। তবে, দুই দেশের প্রশাসনিক সহযোগিতায় এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-দূতাবাস জানায়, এই দুজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য তারা ভারত সরকারের কাছে কনসুলার এক্সেস চেয়েছে। কনসুলার অ্যাক্সেসের মাধ্যমে বিদেশের কোনো কূটনীতিক ভারতে ধৃত বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, হাদি হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বাংলাদেশ থেকে একটি গোয়েন্দা দল ভারতের উদ্দেশে শিগগিরই যাবে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ভারতের একটি বিশেষ ফোর্স হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালসহ তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে শুনেছি। এ বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থাগুলো বিষয়টি আমলে নিয়েছে।
এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা পালিয়ে যান এবং মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। পরে তারা বিভিন্ন স্থান ঘুরে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও এলাকায় পৌঁছান এবং সেখান থেকে আবার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন।
প্রসঙ্গত গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনি প্রচার শেষ করার পর শহিদ ওসমান হাদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার শেষে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১৫ ডিসেম্বর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদি মারা যান। হাদি হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হলে ছয়জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
