■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
স্কাইডাইভিংয়ে একসঙ্গে সর্বাধিক জাতীয় পতাকা উড়িয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৫৪ বছরপূর্তি উপলক্ষে মহান বিজয় দিবসের বিশেষ আয়োজনে আকাশে লাল-সবুজের এই ঐতিহাসিক উপস্থিতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নেয়।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরকে (আইএসপিআর) এ রেকর্ডের স্বীকৃতির তথ্য নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আইএসপিআরের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্যমতে, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ মহান বিজয় দিবসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ প্যারাশুট জাম্প অভিযানের মাধ্যমে বাংলাদেশ একসঙ্গে সর্বাধিক ৫৪টি জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিশ্বরেকর্ড গড়ে। এই ব্যতিক্রমী স্কাইডাইভিং অভিযানে অংশ নেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী ও দক্ষ স্কাইডাইভাররা।
‘Most Flags Flown Simultaneously While Skydiving (Parachute Jump)’ শিরোনামে এই রেকর্ড অর্জন করে টিম বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অফিসিয়াল টাইটেল হোল্ডার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
অভিযানে প্রশিক্ষিত প্যারাট্রুপারদের পাশাপাশি অংশ নেন ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের’ (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীও। পুরো কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করে ‘আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন’ (এএফডি)।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের রেকর্ডস ম্যানেজমেন্ট টিম জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের ৫৪তম বিজয় দিবসকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্মরণীয় করে তোলা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্কাইডাইভারদের একত্র করে জাতীয় ঐক্য, সাহস ও সক্ষমতার বার্তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা।
আইএসপিআর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই অর্জন শুধু একটি বিশ্ব রেকর্ড নয়; এটি বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লাল-সবুজের এই গর্বিত মুহূর্ত ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
মহান বিজয় দিবসে সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিংয়ে অংশ নেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম, মো. নান্নু মিয়া, মো. মাহমুদুল ইসলাম, মোহাম্মদ শিহাব শেখ, মো. আরিফুর রহমান, ফরহাদ আহমেদ, মো. নজরুল ইসলাম, মো. কামরুল হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. আশিকুল ইসলাম, মো. সিরাজুল হক, মোহাম্মদ আলমগীর কবির, মো. রমজান আলী, মো. মনোয়ার হোসেন, মো. শরীফ আহমেদ, বশির আহমেদ, মো. মাহমুদুল হাসান, রাকিবুল ইসলাম, মো. আবু সায়েম, মো. আবু হাসান চৌধুরী, ওমর ফারুক, মনিরুল ইসলাম, সৌরভ আকন্দ রাসেল, মো. মনিরুজ্জামান, এস. এম. রাজিবুল ইসলাম, মো. নুরুল হাসিব, মো. সাজ্জাদুল ইসলাম, আব্দুল আলিম, আরাফাত রহমান, মো. হুমায়ুন কবির, মো. রুবেল হক, মো. সলীম আলী, মো. মহসিন, মো. বিন ইবনুল ইসলাম, এস. এম. এলমা আজম, মঈনুল ইসলাম, মো. তানভীর হোসেন হিমেল, মো. সরোয়ার আলম খান, মিলন চন্দ্র বর্মণ, এস. কে. মো. নাসিম উদ্দিন, মো. সাকিম মাহমুদ, মো. তাইফুর রহমান, মুহাম্মদ রাসেল মাহমুদ, ইমরান আল জিহাদ, মো. মাহেদী হাসান, মো. আশিকুর রহমান, মো. শাহজাহান আলী, আলমগীর হোসেন, মো. জাকির মিয়া, রুবেল মিনিস, মো. নাসির উদ্দিন ও মো. তৌফিকুর রহমান চাকলাদার।
