বাংলাদেশি নাগরিক সস্তা শ্রম কিংবা নীরব যৌন বস্তু নয়

মেঘনা আলম ■

সৌদিতে কাজের কথা বলে, অধিকাংশ নারী নেওয়া হয় হালাল যৌনদাসী হিসেবে বাংলাদেশ থেকে। অন্য অনেক দেশ থেকেও কাজের মহিলা নেওয়া হয়; তাদের অনেকের সাথেই সৌদিদের বিয়ে হয়, প্রেম হয়। কিন্তু বাঙালিদের তারা অচ্ছুত ও নোংরা মনে করে। এমনকি কেউ সত্যিকারের ভালোবাসলেও সমাজ ও আইনের ভয়ে গোপন রাখে এই দেশের নারী-পুরুষের সাথে ভালোবাসা। কারণ মূলত বাংলাদেশ বললেই তারা এটিকে যৌনদাসীর দেশ মনে করে।

অনেক পুরুষও এই সর্বভুক মানসিক বিকৃতির শিকার। সৌদি পুরুষরা তাদের নারীর সাথে পায়ুকাম করে না, কারণ এটা হারাম মনে করে; কিন্তু লুকিয়ে লুকিয়ে বাংলাদেশ থেকে আনা গরিব পুরুষদের সাথে করে। অনেক দেশি ভাই দেশে বড়াই করার জন্য মিথ্যা বলে যে সৌদি মেয়েরা তাদের সাথে গোপনে অনেক কিছু করে। বাস্তবে, এই পুরুষরা ওদের কাছে হিব্লার মতো রাজপ্রাসাদে যেমন নারীদের হেরেমে রাখা হতো।

তবে এদের মাঝে চিকন পুরুষ পেলে, সৌদি পুরুষরা তাদের যৌন বিকৃত কাজে ব্যবহার করে। মান-সম্মানের ভয়ে এবং রোজগার করে দেশে বাড়ি করার আশায়, এসব অনেক প্রবাসী লুকিয়ে যায়। আর কেউ চাইলেও বিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব কারণ আমাদের দেশের এমবাসিগুলো তাদের পাশে দাঁড়ায় না, প্রভূভক্তির উপর টিকে থাকে। প্রবাসী তো অনেক দূরের কথা, আমাদের দেশ থেকে উমরা ও হজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের সাথেও স্থানীয় সৌদিদের আচরণ নিকৃষ্ট। এর অনেক প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু ‘নবীর দেশ’ এই ভেবে ও দেশের মানুষের কাছে নিজের দাম ধরে রাখতে এসব কেউ শেয়ার করে না।

সৌদি নারীরা সাদা চামড়া বা আমেরিকান পুরুষ পেলেই ধর্ম ভুলে গলায় ঝুলে পড়ে, কিন্তু বাঙালি পুরুষদের গোনায় ধরে না। যাদের কাছে কাজ দেবে, তাদের ‘মা’ ও ‘বাবা’ বলে ডাকতে হয়। এটা আদরের ডাক নয়, এটা কর্তৃত্ব ও মালিকানার ডাক। সেই ‘মা’ বা মালিকের স্ত্রী বা মেয়ের দিকে নজর দিলেও গর্দান কেটে নেবে!

তবে এদের মাঝে চিকন পুরুষ পেলে, সৌদি পুরুষরা তাদের যৌন বিকৃত কাজে ব্যবহার করে। মান-সম্মানের ভয়ে এবং রোজগার করে দেশে বাড়ি করার আশায়, এসব অনেক প্রবাসী লুকিয়ে যায়। আর কেউ চাইলেও বিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব কারণ আমাদের দেশের দূতাবাসগুলো তাদের পাশে দাঁড়ায় না, প্রভূভক্তির উপর টিকে থাকে।

প্রবাসী তো অনেক দূরের কথা, আমাদের দেশ থেকে উমরা ও হজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের সাথেও স্থানীয় সৌদিদের আচরণ নিকৃষ্ট। এর অনেক প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু ‘নবীর দেশ’ এই ভেবে ও দেশের মানুষের কাছে নিজের দাম ধরে রাখতে এসব কেউ শেয়ার করে না।

আজও খবরের কাগজে এসেছে, সৌদিতে কাজের কথা বলে নিয়ে গিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, আর দেশের ভাইরাও তার পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো তাকে বিক্রি করতে সাহায্য করেছে!

রিজিক আল্লাহর নিয়ামত। কিন্তু টাকার জন্য আমাদের মা-বোন-ভাইদের ইজ্জত বিলিয়ে দেয়া হচ্ছে। আবার যার কাছে বিলীন হয়, তাকেই ‘বাবা’ বলে ডাকে,তাদের ইজ্জত বাড়াতে নিজেদের একে অপরকে দোষারোপ করে কুরবানি দেয়। অথচ চেষ্টা করলে নিজের দেশে বা অন্য দেশেও সম্মানজনক কাজ করা যায়। কারো গোলামি না করলে রোজগার হবে না, এই চিন্তা শিরক।

আমাদের যে নতুন সরকার হয়েছে, শুধু কত অর্থ উপার্জন হলো সেটাই ভাবলে হবে না। কিভাবে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করা যায়, কী করলে এ দেশের মানুষকে ছোট মনে করা হবে না, কী করলে দুই বেলা ভাত-কাপড়ের সাথে মর্যাদার জীবনও পাবে, সেই মর্যাদাভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

আমি, মেঘনা আলম, যদি কোনোদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পাই, আমি সৌদিদের এই আইন বদলে দেব যে বাংলাদেশিদের সাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে না। এবং নতুন আইন করে দেব, বাংলাদেশি কোনো নারীকে স্পর্শ করতে হলে অবশ্যই আগে বিয়ের সম্মান দিতে হবে। আমি আমার মেয়েদের ভিন্ন দেশে কাজে পাঠাব, তাদের গায়ে কেউ স্পর্শ করার সাহস না পায়, এটা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব।

আর আইন করে দেব, যদি কোনো বাংলাদেশি পুরুষ কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু বা দুর্ঘটনার শিকার হয়, তাহলে সৌদি রাষ্ট্রকে তার পরিবারের আজীবনের জন্য বিনাশ্রমে দায়িত্ব নিতে হবে।

বাংলাদেশি নাগরিক সস্তা শ্রম বা নীরব যৌন বস্তু নয়; তারা সম্মান, নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী।

লেখক: পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার খেতাবধারী

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *