𓂃✍︎ নাগরিক নিউজ ডেস্ক 𓂃✍︎
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের হামরা এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর বোমা হামলায় দিপালী আক্তার (৩৪) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নারী নিহত হয়েছেন। বুধবার কফিলের পরিবারের সঙ্গে অবস্থানকালে এ হামলার শিকার হন তিনি।
নিহত দিপালী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব সালেপুর গ্রামের শেখ মোফাজ্জেলের মেয়ে। শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে লেবাননস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। একইসঙ্গে এক জরুরি সতর্কবার্তায় লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈরুতের ১৪টি এলাকা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দূতাবাস।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে এ নিয়ে অষ্টম বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর এল। তার মধ্যে লেবাননে এই প্রথম বাংলাদেশি কেউ নিহত হলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আজ শুক্রবার ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ দিপালী বেগমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলায় গত বুধবার তিনি নিহত হন।
দিপালী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামের শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। পরিবারের অভাব ঘোচাতে দুই বছর আগে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন দিপালী।
তিনি ২০২৪ সালে লেবাননে যান। সেখানে তিনি গৃহকর্মী হিসেবে একটি পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। জানা গেছে, দিপালী যে বাড়িতে থাকতেন, ওই বাড়িতেই বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে তাঁর কফিলের (চাকরিদাতা) পরিবারের ছয় সদস্য মারা গেছেন।
দীপালীর ছোট বোন লাইজু বেগম জানান, দুই ভাই তিন বোনের মধ্যে দীপালি ছিলেন চতুর্থ। তাঁর মরদেহ বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এখন মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। বৈরুতে থাকা বাংলাদেশিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে দূতাবাসেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ জানান, ‘স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আমরা জেনেছি। মরদেহ দেশে আনতে পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিপালীর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক জানাচ্ছি।’
বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় বৈরুতের হামরা এলাকায় দিপালীর নিয়োগকর্তার (কফিল) বাড়িতে ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা চালায়। এ সময় ভবনটি ধসে পড়ে। তাতে দিপালী নিহত হন। দিপালীর নিয়োগকর্তা ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ মোট সাতজন নিহত হন এই হামলায়।
দিপালী বেগমের মরদেহ বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে। ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রামরুর তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে দেড় লাখের মতো বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন। তাঁর অর্ধেকের বেশিই নারী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এতে বাংলাদেশি শ্রমিকেরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। যেদিন দিপালী নিহত হন, সেদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। তবে ইসরায়েল লেবাননে হামলা বন্ধ করেনি এখনো। গত ৪০ দিনের এই যুদ্ধে সৌদি আরব, ওমান, বাহরাইন, ইরাকে সাতজন বাংলাদেশি নিহত হন।
লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস নিহত দিপালীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দূতাবাস প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। দূতাবাসের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই হামলায় দিপালীর কফিল ও তার পরিবারের একাধিক সদস্যও নিহত হয়েছেন। নিহতের মরদেহ বর্তমানে বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মরদেহ শনাক্ত ও পরবর্তী প্রক্রিয়া নিয়ে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
উল্লেখ্য, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই লেবাননে ভয়ঙ্কর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। বুধবারের মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে ৫০টি যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশটির বৈরুত ও অন্যান্য অঞ্চলে ১০০ বারেরও বেশি বোমাবর্ষণ করেছে ইসরাইলি বিমান বাহিনী। নারকীয় এ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ। সেইসঙ্গে আহত হয়েছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ। এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার এক জরুরি সতর্কবার্তায় লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈরুতের ১৪টি এলাকা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সেখানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য আক্রমণের বিষয়ে জরুরি সতর্কবার্তা প্রদান করা হলো। এলাকাগুলো হলো- সাবরা শাতিলা, শাতিলা, বুর্জ আল বারাজনে, আল-রিহাব, ইজনাহ, বীর হাসান, হাইছুলুম, এয়ারপোর্ট রোড, আল-উযায়ী, আল-শিয়েহ, তারিক আল-জাদিদের উপকণ্ঠ, আল-তাইউনেহ, ফুর্ন আল-শুব্বাকের উপকণ্ঠ ও বাদারো (আল-শিয়ার কাছে)।
