স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পর জামিন পেলেন সাদ্দাম

■ যশোর প্রতিনিধি ■ 

স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী সন্তান হারানো জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ জামিন দিয়েছেন। মানবিক বিবেচনায় এ জামিন আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের জামিননামা এখনো জেলগেটে পৌঁছায়নি। ফলে আজ মুক্তি মিলছে না তার।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ।

জেলার আবিদ বলেন, শুনেছি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের মানবিক কারণে ৬ মাসের জামিন হয়েছে। কিন্তু জামিনের চিঠি এখনো হাতে পাইনি। তাই তিনি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না। চিঠি পাওয়ার পর পরবতী কার্যক্রম চলবে।

এর আগে সোমবার স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী সন্তান হারানো জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ জামিন দিয়েছেন। মানবিক বিবেচনায় এ জামিন আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে একাধিক মামলায় কারাগারে বন্দি। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন সাদ্দাম। পরে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন তিনি। এরপর থেকে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন।

বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে বন্দী আছেন সাদ্দাম। গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে তাঁর স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর (২২) ঝুলন্ত মরদেহ এবং তাঁদের ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসানের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন বিকেলে লাশবাহী গাড়িতে করে দুজনের লাশ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। স্ত্রী–সন্তানের মৃত্যুতে সাদ্দামকে কেন প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

আগে ছয়টি মামলায় জামিন পেয়েছিলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা এই মামলায় নিম্ন আদালতে বিফল হওয়ার পর তাঁর জামিন চেয়ে গত সপ্তাহে হাইকোর্টে আবেদনটি করা হয়। আবেদনটি আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ১৮৮ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

আদালতে জামিন আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আকতার রুবি ও মোহাম্মদ ফজলুল করিম মণ্ডল।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *