কারাবন্দী ছাত্রলীগ সভাপতির স্ত্রী ও শিশুপুত্রের লাশ উদ্ধার

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও শিশুপুত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সাবেকডাঙ্গা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় স্ত্রীর এবং মেঝে থেকে শিশুপুত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) এবং শিশুপত্র নাজিম হোসেন। স্বর্ণালী জেলা জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন হাওলাদারের মেয়ে। বছর পাঁচেক আগে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। নাজিম ছিল এই দম্পতির একমাত্র সন্তান। ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় যশোর কারাগারে রয়েছেন।

স্বর্ণালীর ভাই শুভ জানান, দীর্ঘদিন স্বামী কারাবন্দী থাকায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে স্বর্ণালী প্রথমে তাঁর শিশুসন্তানকে হত্যা করেন এবং পরে আত্মহত্যা করেন বলে তাঁদের ধারণা।

শুভ আরও জানান, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। স্বর্ণালী তাঁর স্বামীকে খুব ভালোবাসতেন এবং তাঁকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং হতাশায় ভুগছিলেন। হতাশা থেকেই প্রথমে ৯ মাসের শিশুসন্তানকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন।

শুভ জানান, সাদ্দামের বাড়িতে তাঁর মা, বোন, স্ত্রী ও সন্তান একসঙ্গে বসবাস করতেন স্বর্ণালী।

স্বর্ণালীর বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যাই করেছে। আমরা কাউকে দোষ দিতে চাই না। ময়নাতদন্ত ছাড়া মেয়ে ও নাতনির মরদেহ নেওয়ার জন্য আমরা আবেদন করেছি। এখন প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেয়।’

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল সকালে ময়নাতদন্ত হবে।’

তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবার, শ্বশুরবাড়ির লোক ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী নিজের সন্তানকে হত্যার পরে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন। মূলত ময়নাতদন্তের পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *