■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
সোমবার সব ব্যাংকে চিঠি দিয়ে তার তথ্য চাওয়া হয়েছে। বিএফআইইউয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তার অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, লেনদেনসহ যাবতীয় তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ মাহমুদসহ তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি। আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন।
তবে এর জবাব দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে সামাজাকি যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা জানান।
পোস্টে আসিফ মাহমুদ বলেন, আগামীকাল আমি নিজেই ব্যাংক স্টেটমেন্ট সবার জন্য উন্মুক্ত করবো। পদত্যাগের আগেই আয়-সম্পদের হিসাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে দিয়ে এসেছি।
এর আগে সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে বিএফআইইউর পক্ষ থেকে দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংক ও অন্যান্য নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ তলবনামা পাঠানো হয়।
এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন সাকিব আল হাসানের ভক্তরা।
এ বিষয়ে পরে আসিফ মাহমুদ বলেন, সাকিব আল হাসানকে খেলতে না দেয়ায় মব সৃষ্টি করে দুদকে অভিযোগ জানানো হয়েছে। দুদকে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে কোনো শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত আছি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার আগে পদত্যাগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বর্তমান এমপি নাহিদ ইসলাম।
আসিফের জন্ম ১৯৯৮ সালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর গ্রামে। তার পিতা মো. বিল্লাল হোসেন ও মা রোকসানা বেগম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ছিলেন। ২০২৩ সালে আত্মপ্রকাশ করা গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির ঢাবি কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন আসিফ মাহমুদ। বর্তমানে তিনি এনসিপির মুখপাত্র।
তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে আলোচনায় আসেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দেওয়া সমন্বয়কদের মধ্যে তিনি অন্যতম।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পান আসিফ। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয় তাকে।
উপদেষ্টা থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিলাসী জীবনযাপনের অভিযোগে একাধিকবার সমালোচনার জন্ম দেন আসিফ মাহমুদ। কুমিল্লার মুরাদনগরের সন্তান আসিফ নিজ এলাকা থেকে নির্বাচন করতে উপদেষ্টার ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ওই এলাকায় বারবার আন্দোলন-বিক্ষোভও হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন গুঞ্জন ওঠে, ঢাকা-১০ আসন থেকে প্রার্থী হবেন তিনি। সে লক্ষ্যে কিছুদিন ওই এলাকায় তৎপরতা চালালেও শেষপর্যন্ত তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে দলটির নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নেন।
